অন্য এক মাওয়া

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৬
গাড়ি নেই! পারলে কিছু গাড়ি পাঠিয়ে দিন। সকাল ১০টার পর হতে ঘাট একদম ফাঁকা। এই সুযোগে ১০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগরের ছনবাড়িতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০টি পণ্যবাহী ট্রাক পার করেছি। এবারের ঈদ যেনো অন্যরকম হতে যাচ্ছে। যানবাহনেরও তেমন চাপ নেই। পাশাপাশি লঞ্চ ও সিবোটে তেমন উপচেপড়া লোকের ভিড় দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে দীর্ঘ ছুটির কারণে লোকজন ধাপে ধাপে বাড়ি যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া অফিসের ম্যানেজার (বাণিজ্য) সিরাজুল হক গতকাল শনিবার ফোনে এভাবেই জবাব দিলেন। সরেজমিনে মাওয়া গিয়ে দেখা যায়, সকালে ঘাটে যাত্রীর একটু চাপ ছিল। দুপুর হওয়ার সাথে সাথেই তা একদম কমে যায়। মাওয়া ঘাটে ফেরিগুলো গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। কিছু সময় পর পর ২-১টি করে গাড়ি আসছে আর ফেরিতে উঠছে। বরং ফেরিটি না ভরা পর্যন্ত নতুন কোন গাড়ি আসার অপেক্ষায় ফেরিটি দাঁড়িয়ে ছিল ঘাটে। এছাড়া যাত্রীদের কোন বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে না। লঞ্চঘাটেও যাত্রীর চাপ কম। সিবোট ঘাটেও ব্যতিক্রম কিছু নয়। নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে সিবোটে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করায় যাত্রীরা খুব খুশি। ফরিদপুরের সফি মিয়া জানালেন, অনেকদিন পর দেশে যাচ্ছি মা-বাবার সাথে ঈদ করতে। সিবোটে লাইফ জ্যাকেট পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি ধন্যবাদ জানান। সিবোট ঘাট ইজারাদার আশরাফ হোসেন জানালেন, প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়াই নেয়া হচ্ছে। এদিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে চলাচলরত লোকাল বাসগুলোতে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মিত ৭০ টাকার ভাড়ার স্থলে গতকাল এ ভাড়া ১শ টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভিআইপি পরিবহনের বাগেরহাটগামী যাত্রী আবু সালেহ মিয়া। লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, মাওয়া ঘাটের আগের সেই চিত্র এখন আর নেই। একদিকে বর্তমান ঘাটের পরিসর যেমন বড়। অন্যদিকে লঞ্চ, সিবোট, ট্রলার, ফেরি, বাস সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে চমত্কার একটি সমন্বয় হওয়ায় ঘাটে যানজট লাগতে পারছে না। সব মিলিয়ে মাওয়ার অবস্থা খুবই ভাল।