মায়ের মৃত্যুর পর গর্ভের সন্তান বেঁচে থাকার ঘটনাকে চিকিত্সকরাও বলছেন ‘অলৌকিক’। গাজায় এক মায়ের বেলায় ঘটেছে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা। শুক্রবার ইসরাইলি হামলায় গাজার এক বাড়িতে মারা যান এক গর্ভবতী মহিলা। এরপর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান চিকিত্সকরা। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান জন্ম হয়। তবে স্বাভাবিকভাবে ভূমিষ্ট হওয়ার সময় থেকে বেশ দূরে ছিল শিশুটি। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, শিশুটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা পঞ্চাশ শতাংশ। খবর বিবিসি ও আল-জাজিরার।
বিস্ময়করভাবে মৃত্যুকে ফাঁকি দেয়া এই শিশুটির নাম এখনো ঠিক করা হয়নি। একজন ফিলিস্তিনি ডাক্তার বলেন, এমন দৃশ্য দেখা সত্যিই বেদনার। একজন মায়ের সাথে শেষ হয়ে যাচ্ছিল তার ভেতর তিল তিল করে বেড়ে ওঠা আরেক স্বত্ত্বা। জানা গেছে, নিরাপদ মনে করে ওই পরিবারের সদস্যরা একটি ছোট বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ইসরাইলের বিমান বাহিনীর ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে বাড়িটি মুহুর্তের মধ্যে ধুলিস্মাত্ করে দেয়। কোনো কোনো মিডিয়া জানিয়েছে, হামলার পর ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাচ্চাটি গর্ভ থেকে বের করা হয়। তবে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের টেবিলে তার মৃত্যু হয়েছিল।
কিন্তু অস্ত্রোপচারের সাথে যুক্ত চিকিত্সক ডা. ফাদি আল খোর্তে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক আল-আরাবিয়াকে বলেন, এটা মিরাকল ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ, বাচ্চাটি ভূমিষ্ট হবার ১০ মিনিট আগেই মায়ের মৃত্যু হয়েছিল। চিকিত্সাবিজ্ঞান এর ব্যাখ্যা দিতে পারবে কি না সেটা সময়ই বলে দিবে। কারণ মা যদি পাঁচ মিনিট ধরে মৃত থাকেন তবে গর্ভের ভেতর সন্তান বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।
