রফিক আজাদ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ১৫:২২
সারা জীবনেই ছিল সমস্যাটি কিন্তু সমাধানের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি আগে; সমস্যা গভীরই বটে, তবে ব্রহ্মার আয়ুর প্রথমার্ধে এ-ব্যাপারে কী অসুবিধা ছিল তা আমার গোচরে ছিল না, কেননা মধ্যরাতের আগে কখনোই বিছানায় ফেরা হতো না, তা-ও বেহদ্দ বেহুঁশ জামা-জুতোসহ ঝাঁপিয়ে পড়েছি হয়তো বা— মনেও পড়ে না আজ! এইবারই মনে হলো ঘুমুতে যাওয়ার আগে মাথার নিচের বস্তু অর্থাত্ বালিশ কেমন হলে ঘুম হবে খুবই সুসহ! বালিশ কেমন হবে ভাবিনি কখনো আগে আর এবার বালিশ প্রসঙ্গই মুখ্য বলে মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বের কেন্দ্রে তবে আজ বালিশেরও ভূমিকা রয়েছে! কী বালিশে ঘুম হবে ভালো— সম্পূর্ণ বিশ্রাম হবে সে-ব্যাপারে, সত্যিকার গবেষণা প্রয়োজন আছে। বিভিন্ন বয়সে হবে বিভিন্ন প্রকার বালিশের প্রয়োজন; এ ব্যাপারে ভূ-বাংলায় নেই কোনোই সংস্কৃতি! — থাকাটা উচিতই ছিল বলে আজ মনে হয়; জাপানিরা সর্বদাই আগাম চিন্তায়ও বেশ দড়— উন্নত জাতি সে বটে, গবেষণা-ক্ষেত্রে অগ্রসর; প্রতি বয়ঃপর্যায়ের জন্যে বিভিন্ন বালিশ তারা নির্ধারণ করেছেন অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ শেষে! শিশুদের জন্যে তৈরি মাতৃক্রোড়াকৃতি উপাধান; (সমুদ্রের তীর থেকে স্থানান্তরে যাওয়া মানুষের সুষম ঘুমের জন্যে অ্যাক্টিভেটর পিলো!) সৈকতে আছড়ে পড়া তরঙ্গের শব্দ অবিরাম! আমার মতন যারা জ্যেষ্ঠ নাগরিক এই দেশে তাদেরও জন্যে আছে স্বপ্নাতুর জাপানি বালিশ— ‘হাত্সুবাত্সু কুরাবু’ বা প্রাণশক্তির বালিশ এক, কিংবা আছে ‘ওতোসান নো সাইজিত্স’ বালিশ— ‘বাবার ছুটির দিন’ নামে এই বালিশটি বড় উপযোগী! ঘুমকাতরতা নয়, ঘুমুনোর জন্যে প্রয়োজন সুবিধজনক এক উপাধান, শান্তি-কল্যাণের জন্যে অবশ্যই চাই এক নিবিড় নিদ্রার নীড়!।