উতরবিকেলে ভরতভায়না

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ১৫:২২
ওরা কে কোথায় কী করছে এখন? বাবলা আর সুকন্যা অর্থী? শীতের শ্যামল বিকেলে বড় উত্সাহ নিয়ে আমাকে ঘরের বের করে এনেছিল দুজনে। কোথায় কতদূরে আঁচ করতেও দেয়নি শুরুতে। চোখেমুখে চাপল্য আচরণে খুনসুটি বিকেলটা প্রগলভ। বাবলা গানের মানুষ। অর্থী (কী মনকাড়া নামটি! কে রেখেছে এ কন্যার?) মেডিক্যালের শিক্ষার্থী। আমি বিনি টিকিটের যাত্রী। শখের ডাকে চড়ে বসেছি, ইজিবাইকে। খুলনা শহর ছাড়িয়ে দূরে—দূরতর উত্তরে গ্রামছাড়া আকাশপ্রান্তর। পথহারা লক্ষ্যহারা তিন বাউলের যাত্রা। একটি পুরনো গাছ, সেও বড় সিঃসঙ্গ। পেছনে মাটির পাহাড়—প্রত্নচিহ্নের প্রাচীন সম্পদ সারা চামড়ায়। লোকে বলে ভরতভায়না—রামায়ণের ভরতরাজার ঢিবি (নাকি কোনো বিস্মৃত ভরতমুনির?)। আমরা গাছের পাশে পা ছড়িয়ে বসে নিই। কপালসোজা সাক্ষী গোলাপী সূর্য। পাঞ্জাবীর পকেট থেকে বেরিয়ে আসে তরতাজা কবিতার পাণ্ডুলিপি। দৈবে ভর করা গলায় পড়া চলতে থাকে কবিতার পর কবিতা। প্রান্তরে প্রান্তরে লীলাভরে স্পন্দনের যাদু। আগের রাতে লেখার সময় জানতাম না, আমার বুকের সন্তানেরা আজ গোধূলিতে ডানা ভাসাবে উদার নীলিমায়—মিলে যাবে অগম প্রাগেতিহাসে! চিরকালের ভেলায়!