তোমাকে আসতেই হবে

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ১৫:২৬
আমি বলছি জাদুকরের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে— হবে, আবার হবেই হবে তুমি বলতে পারো কী হবে? দশ বছর আগে হলে প্রশ্নই উঠত না; আজ ওঠা খুব স্বাভাবিক। তবু বলি হবে; এবং হবেই আমি তোমাকে পড়েছি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মতো মর্মে মর্মে গভীর নিষ্ঠায়। আমি তোমাকে অনুবাদ করি প্রতিদিন চোখ বন্ধ করে ধ্যানী- ঋষির মগ্নতা নিয়ে; তোমার গোপন দীর্ঘঃশ্বাস অথবা সুখের শীত্কার তোমার সুখ-দুঃখ মেডিটেশনের মতো আমার ভেতরে উদ্ভাসিত আমি জানি তোমাকে ফিরতেই হবে। তা না হলে সামনেই বড় দুঃসময়। তুমি না ফিরে থাকবে কী করে— তোমার শূন্যতা যদি মুছে দেয় বাংলা কবিতার পাঠকনন্দিত প্রতিটি পঙিক্ত আর রক্তার্জিত শোকের মতো কালো বর্ণমালা। বইগুলো যদি হয়ে যায় বিষণ্নতায় সাদা পাতা। যদি মনস্তাপে পুড়ে যায় বাংলার সবুজ মাঠ— দুর্ভিক্ষ তো অনিবার্য তবে। সেই দৃঢ় প্রত্যয়ে জ্যোতিষীর মতো বলি : তোমাকে আসতেই হবে। তুমি সূর্য কবির হূদয়ে, তুমি যদি হাজার হাজার মাইল দূরত্ব অথবা ভিন্ন গোলার্ধ থেকে না-ই ফিরে আস, তাহলে জোয়ার-ভাটা দিনরাত্রি হবে? চাষাবাদ বন্ধ হবে সৃজনের। দুঃখ এসে দুর্ভিক্ষের মতো হানা দেবে সকল মঙ্গলবোধ আর কল্যাণের গোলাঘরে অনাহারে নষ্ট হবে মননশীলতা। তরুণেরা ভয়াল বখাটে হবে, যৌন উত্পীড়ক হয়ে দেশজুড়ে ডেকে আনবে বিপর্যয়। আমি জ্যোতির্বিজ্ঞানী নই, জাদুকরও নই, আমি সরল বিশ্বাসী সামান্য প্রেমিক, অবিচল তোমার বিশ্বাসে সব কিছু জমা রেখে বৃক্ষের কসম বলছি, তোমার দুঃখের আর গোপন সুখের কসম তোমাকে আসতেই হবে। এসব আমি শুধু জানি।