তুমিই সেই আলবাট্রস

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ১৫:২৯
তার আগমনবার্তাই জানিয়ে দেয়— তুমি নেই। হাবভাব দেখে মনে হয় রাজাদেরও রাজা তিনি। কে না জানে যে এ কালের স্বনির্বাচিত রাজাদের যাত্রাপথে বাতাসকেও থমকে দাঁড়াতে হয়। তার দাপট আরও বেশি। আকাশে আকাশ থাকে না। বৃক্ষরাও মুহূর্তে মৃত্তিকাবিমুখ। কোনো এক গূঢ় রহস্যের টানে স্বর্ণ-তৃষ্ণা ভুলে শকুন্তলার মতো মাতম করে কর্দমাক্ত পৃথিবীর প্রাণ। তুমি থাকলেই কি সব আর্তনাদ থেমে যেত? মাটির শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেত রুদ্ধশ্বাস বৃক্ষদের প্রাণ? বিপন্ন পৃথিবী ফিরে পেত তার লুপ্ত ডানার সুঘ্রাণ? আসলেই কি ডানা ছিল তার? মাটি যদি শৃঙ্খলই হবে শেকড় তাকে নিবিড় আলিঙ্গনে জড়াবেই-বা কেন? জটিল এই সমীকরণ। দূর সমুদ্রের আলবাট্রস তাকে শিখিয়েছে এইসব। বাতাসে বাতাসে ছড়িয়ে দিয়েছে লবণাক্ত দীর্ঘশ্বাস। হতে পারে তুমিই সেই আলবাট্রস। তুমি ছিলে। হয়তো-বা আজও তুমি আছো কারো বাহুর বন্ধনে। তবু নাই নাই রব উটের মতো মাথা গুঁজে থাকে কুরুক্ষেত্রের তীব্র ধূলিঝড়ে। একমাত্র ব্যতিক্রম তিনি। তার রাজকীয় পদশব্দে সরে যায় সমস্ত আড়াল। কী যে হয়— সন্ন্যাসী সংসার খোঁজে, সংসারী সন্ন্যাস!