এ বছর রপ্তানি ১শ’ কোটি টাকা ১৮ হাজার নারীর কর্মসংস্থান

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২১:২৩
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এবার প্রায় ১শ’ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে মঙ্গা কবলিত রংপুর অঞ্চলের টুপি তৈরির কারখানা মালিকরা। রংপুর শহরের এরশাদ নগর ও কাউনিয়ার শাহবাজ (টুপি গ্রাম) ছাড়াও কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী ২৪টি চরাঞ্চলে ১৫টি কারখানায় প্রায় ১৮ হাজার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা ১ টি টুপির কাজ করে পায় ৩০ টাকা। সেই হিসেবে দিনে ৫ থেকে ১০ টি টুপির কাজ করে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা রোজগার করেন। এই অঞ্চলে টুপি তৈরির কারখানা স্থাপনের প্রধান উদ্যোক্তা সোহাগ মণ্ডল জানান, তার বাবা কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিল মসজিদে ইমামতি করতেন। ৯০ দশকের শেষে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবিকার সন্ধানে তিনি ফেনীতে গিয়ে একটি টুপি রপ্তানিকারক এক প্রতিষ্ঠানে ৩ বছর চাকরি করেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজ গ্রাম কাউনিয়া উপজেলার শাহবাজে এসে কয়েকজন দুস্থ মহিলাকে নিয়ে টুপি তৈরির কাজ শুরু করেন। ২০০৫ সালের শেষের দিকে ওমানের এক ব্যবসায়ীর সাথে তার যোগাযোগ হয়। সেই থেকে ওমানে টুপি সরবরাহের কাজ শুরু করেন তিনি। তার সফলতায় উত্সাহী হয়ে রংপুরে গড়ে উঠেছে ১৫টি কারখানা। রংপুরাঞ্চলে দেশীয় বাজারের জন্য একটি টুপি তৈরিতে প্রায় ১শ’ ৩০ টাকা, রপ্তানিযোগ্য টুপির প্রায় ২শ’ ৫০ থেকে ৫শ’ ৮০ টাকা খরচ হয়। বিদেশি এজেন্ট বা রপ্তানিকারদের কাছে যা ৪শ’ থেকে ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। টুপি শিল্পে কাজ করে স্বামী পরিত্যক্তাসহ অসংখ্য নারীর সংসারে সুখ এসেছে। তারা নিজেদের খরচ মিটিয়েও ভালোভাবে সন্তানের লেখাপড়া শেখাতে পারছেন। বর্তমানে কাজের ফাকে ও অবসরে কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী ও গৃহিণীরাও টুপির কাজ করে বাড়তি উপার্জন করছেন। কারখানা মালিক মজিবর রহমান জানান, শ্রমিকের মজুরি কম হওয়ায় দামে কারুকাজ করা দৃষ্টিনন্দন টুপির চাহিদা দেশে ও বিদেশে বেড়েই চলছে। রমজান মাসে চাহিদা এতোটাই বৃদ্ধি পায় যে, ২৪ ঘণ্টা কাজ করেও চাহিদা মতো টুপি সাপ্লাই দেয়া কঠিন হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধান করতে যে অর্থের প্রয়োজন তা সবার পক্ষে যোগাড় করা কঠিন। তবে নিজেদের টাকায় টুপি তৈরির সুতা এবং কাপড় আমদানি করতে পারলে অল্প দামে আরও উন্নতমানের টুপি তৈরি করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেলে এ শিল্পের আরও বিকাশ ঘটানো সম্ভব হতো।