মঠবাড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনদিন বিদ্যুত্ না থাকায় চরম দুর্ভোগ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২১:২৪
মঠবাড়িয়ার ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনদিন ধরে বিদ্যুত্ না থাকায় হাসপাতালের চিকিত্সা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। ট্রান্সফরমারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যুত্ না থাকায় রোগীদের ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রেসহ বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করতে না পাড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে উপকূলীয় মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার কয়েকশ’ রোগী। বিদ্যুত্ সংকটে হাসপাতাল অভ্যন্তরে পানি সরবরাহ না থাকায় রোগীদের আবাসিক ওয়ার্ডগুলোতে টয়লেটের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং রাতের অন্ধকারে পানি সংকটে যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করছে। হাসপাতালে বিদ্যুতের অভাবে ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রেসহ মল-মূত্র পরীক্ষা করতে না পারায় চিকিত্সকরা রোগীদের সঠিক ব্যবস্থাপত্র দিতে পারছে না। ২৫ দিন বয়সী ইমার দত্তকের আপন খালা সিমা আক্তার জানান, বিদ্যুত্ না থাকায় শ্বাসকষ্টের গ্যাস নিতে না পারা এবং ভ্যাপসা গরমে নবজাতক ইমা গত শনিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রোগী মো. রুস্তম আলী জানান, ৩ দিন ধরে বিদ্যুত্ না থাকায় সন্ধ্যার পরে অন্ধকারে আমাদের টয়লেটে যেতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। নবজাতক ও শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ভর্তি ৫০ রোগীর মধ্যে ৭ জনই নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু। বিদ্যুতের অভাবে ওই রোগীদের শ্বাসকষ্ট রোগ নিরাময়ে নেবুলাইজার মেশিনে গ্যাস দিতে না পারায় শিশুরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল রবিবার সকালে ৭-৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে আসলে বিদ্যুত্ না থাকার কারণে তাদেরকে অন্যত্র চিকিত্সা নেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি মঠবাড়িয়া জোনাল অফিসের ডি.জি.এম মো. রবিউল হক জানান, হাসাপাতালের ট্রান্সফর্মারটির মালিক পিডিবি হওয়ায় ওই ট্রান্সফর্মারটি পল্লী বিদ্যুত্ মেরামত করতে পারছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ট্রান্সফর্মারটি সচল করলে দ্রুত বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম দিপু বলেন, পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের কাছে ভাড়ার চুক্তিতে একটি ট্রান্সফর্মারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ট্রান্সফর্মারটি পেলেই হাসপাতালে বিদ্যুত্ সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে।