বাগাতিপাড়ায় কয়েক বছর আগে কিছু মানুষ ফসলী জমি নষ্ট করে স্বল্প পরিসরে পুকুর খননের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করলেও বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আর এভাবে আবাদি জমিতে পুকুরগুলো খনন করে যেভাবে উঁচু পাড় বাঁধাই করা হচ্ছে তাতে আগামীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক কৃষক। এদিকে ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার পর তা পরিবহনের জন্য অবৈধভাবে পাকা ও কাঁচা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি বোঝাই ভারি যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাগুলো ভেঙে গিয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
পুকুর খননে অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নে নূরপুর মালঞ্চি গ্রামের আনিছুর রহমান (শিল্পপতি) দাবি করেন, হরিরামপুর মাঠের সবগুলো পুকুর পুরাতন, বর্তমানে শুধুমাত্র সংস্কার করছি। অনুমতি আছে কি না আপনি কেন জানতে চাইছেন? বলেই মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলার বিলগোপালহাটী গ্রামের আকবর আলী (বিভাগীয় পরিচালক, আনসার ভিডিপি, রাজশাহীতে বর্তমানে কর্মরত) প্রায় ২০ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছেন অনুমতি আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন দিয়ে শুরু করেছিলাম। তবে বর্তমানে বন্ধ আছে।
স্থানীয় কৃষক চাঁদ মোহাম্মদ দাবি করেন, উপজেলার হরিরামপুর মাঠে যেখানে পুকুরগুলো খনন করা হচ্ছে, পাশেই আমার জমি। বছরে তিনটি করে ফসল হয়। কিন্তু আবাদি জমিতে পুকুরগুলো খনন করে যেভাবে উঁচু পাড় বাঁধাই করা হচ্ছে তাতে আগামীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, আইনের লোকজন এসে পুকুর খনন দেখে যাচ্ছে, তাদের সাথে কথা বলছে, কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। সরকারি অনুমতি নাই অথচ পুকুর খনন চলছে।
কর্দমাক্ত পাকা রাস্তায় পড়ে আহত এনজিও কর্মী উপজেলার নূরপুর গ্রামের কাজল হোসেন জানান, অবৈধভাবে পুকুর খনন করে সেই মাটি তারা বিক্রি করছে। আর ওই মাঠি বহনকারী ভারি ট্রাকগুলো গ্রামের রাস্তা নষ্ট করছে। আমি নিজেই পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে আহত হই।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী বলেন, এভাবে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করায় চিরস্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার দাবি জানান তিনি।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, অবৈধভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খননের খবর পেয়ে পরিদর্শন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী বলেন, পুকুর খননের জমি আবাদি কি না, ইউএনও স্যার এমন প্রতিবেদন চাওয়া সাপেক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন করা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
