বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৪
আজ ২৯ রমজান। রমজানের সিয়াম শেষে আসে ঈদুল ফিত্র। ঈদুল ফিত্র মানে সিয়াম ভাঙার আনন্দ উত্সব। ঈদ মুবারক উচ্চারণের মধ্য দিয়ে এদিন আনন্দ সৌরভ বিচ্ছুরিত হয় সর্বত্র সবখানে। আজ যদি শাওয়ালের চাঁদ দেখা না যায় তবে পরশু দিন ঈদ। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ (রমজানের চাঁদ) দেখে সিয়াম রাখবে এবং চাঁদ (শাওয়ালের চাঁদ) দেখে সিয়াম রাখা বন্ধ করবে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে মাস পূর্ণ করবে। (বুখারী শরীফ) ঈদের দিন মহা আনন্দের দিন এবং খুশীর দিন। এদিন আনন্দ করবার এবং আনন্দ বিলাবার দিন। রমজানের এক মাস সায়িম বা রোজাদার সিয়াম পালনের মাধ্যমে ধৈর্য, দয়া, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযম এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য জ্ঞাপনের যে প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ করে, জীবন চলার যে শৃঙ্খলাবোধ অর্জন করে তা জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়নের দৃঢ় শপথে বলীয়ান হবার আনন্দ-উত্সব ঈদুল ফিত্র। এই আনন্দ বিশ্বজনীন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সকল জাতিরই আনন্দ উত্সব আছে, আমাদের আনন্দ-উত্সব এই ঈদ। ঈদুল ফিতের দিবসের সূচনাতেই দরিদ্রজনদের মধ্যে সাদাকাতুল ফিত্রা বিতরণ করতে হয়। ঈদ সব মানুষকে একই উঠোনে এনে দাঁড় করায়। ঈদ বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলবার তাগীদে সমুজ্জ্বল। মানুষে মানুষে ঐক্য ও সংহতির এক সংযমী জীবনের চেতনাই ঈদুল ফিতেরর চেতনা। ভালো পোশাক পরে, আতর-সুরমা লাগিয়ে জড়ো হতে হয় ঈদগাহে কিম্বা মসজিদে ইমামের পিছনে ঈদের দুই রাক’আত সালাত ছয় তকবীরের সাথে আদায় করে ইমাম সাহেবের দেয়া খুতবা শুনতে হয়। এই সালাত যেমন ওয়াজিব তেমনি খুত্বা শোনাও ওয়াজিব। এই সালাত শেষে কুলাকুলি করার মধ্য দিয়ে মানবতার বিজয় বারতা যেনো ঘোষিত হয়। যুগ শ্রেষ্ঠ সূফী মওলানা তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি ‘আলায়হি বলেছেন: প্রকৃত রোজাদারের জন্য ঈদ পৃথিবীতে জান্নাতি সুখের নমুনা। রমজান মাসের পর আসে শাওয়াল মাস এই মাসে ছয়টা সিয়াম পালন করলে অশেষ সওয়াব লাভ করা যায়।