দোহারে পদ্মার ভাঙনে দিশাহারা মানুষ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৩
‘আমাদের কপালের লিখন যেন পদ্মা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাওয়া। তাই অবাক হওয়ার কিছুই নেই। গরীব মানুষের কষ্টে কারো কিছু যায় আসে না’। দোহারের নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ধোয়াইর গ্রামে ভাঙ্গনের দৃশ্য দেখতে গেলে এভাবেই কথা বলছিলেন আইমনা বেগম (৫৫)। বর্ষা মৌসুম শুরুতেই দোহারের নয়াবাড়ী ও নারিশা ইউনিয়নে পদ্মা ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। গত ৪ দিনে ১০০ পরিবারের শত বছরের স্মৃতিজড়িত ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শতাধিক পরিবার ভাঙ্গনের কবলে অসহায় হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে ও পদ্মাপাড়ের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ধোয়াইর, বাহ্রা ও নয়াডাঙ্গী গ্রামে গত ৪ দিনে পদ্মায় ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনকবলিত মানুষ ঘরবাড়ি সরাতে এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করছে। কেউ ঘরবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত, কেউ গাছপালা কাটার কাজে ব্যস্ত। কেউ চলে যাচ্ছে অজানা গন্তব্যে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির লোকজনও ব্যস্ত খুঁটি থেকে তার ও ট্রান্সফরমার সরানোর কাজে। গতকাল রবিবার ভোর থেকে পদ্মা হয়ে উঠে আগ্রাসী। মুহূর্তের মধ্যে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শিকদারবাড়ীর ১০টিসহ ২০টি বাড়ি বিলীন হয়ে যায়। ভাঙ্গনের শিকার মোঃ হান্নান (৩২) বলেন, ফজরের আজানের পর হঠাত্ করে আমার ঘরে কাঁপন দিয়ে আসবাবপত্র পড়ে যায়। তারপর দেখি নদীতে পড়ে যাচ্ছে আমার ঘর। তখন ঘর থেকে সবাই বের হয়ে গেলেও ঘরটা বাঁচাতে পারিনি। এখন আমার কিছুই রইল না। বাহ্রা গ্রামের শুকুর আলী (৬৫) বলেন, আমার জীবনে পদ্মায় এতো স্রোত দেখি নাই। আল্লাহ ছাড়া আমাগো এই পদ্মার হাত থেইকা রক্ষা করার কেউ নাই। গত ২৪ ঘণ্টার অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে ধোয়াইর বাজার ও মাদ্রাসা হুমকির মধ্যে রয়েছে। পদ্মা ভাঙ্গন যেন তাদের নিয়তির লেখন। গত তিন যুগে দোহারের নয়াবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় গ্রামের পুরোটাই পদ্মার গ্রাসে বিলীন হয়ে যায়। এমপি, মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির পরও দোহারবাসীর একমাত্র দাবি পদ্মার ভাঙ্গন রক্ষায় কেউই এগিয়ে আসেনি। বাহ্রা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দোহারে তার নির্বাচনী সভায় দোহার নবাবগঞ্জবাসীকে পদ্মার ভাঙ্গন রোধে বেড়ীবাঁধ নির্মাণের অঙ্গীকার করলেও ৬ বছরেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার ও জনপ্রতিনিধির পরিবর্তন হলেও দোহারের পদ্মা পাড়ের মানুষের নিয়তির কোন পরিবর্তন হচ্ছে না এমন আক্ষেপ তাদের। ধোয়াইর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত ৪ দিনে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের নয়াডাঙ্গী, বাহ্রা ও ধোয়াইর গ্রামের শতাধিক পরিবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সহায় সম্বল হারিয়েছে। এ স্থানে প্রায় ৩শ’ মিটার জায়গায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, দোহারের পদ্মা ভাঙ্গন নিয়ে আমরা সত্যিই আতংকিত। খোঁজ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামের ২৫টি পরিবার গত ২৪ ঘণ্টায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।