গাজায় মানবিক কারণে ২৪ ঘন্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে হামাস। তবে ইসরাইল এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। এর আগে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর আবারো হামলা শুরু করে ইসরাইল। এদিকে গতকাল রবিবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আকাশপথ, স্থলপথ এবং নৌপথে একযোগে হামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। খবর বিবিসির।
হামাসের মুখপাত্র সামি আর আবু জুহরি জানান, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সুবিধার্থে রমজানের শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিতে এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সকল সংগঠনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে মানবিক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে হামাসের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস ইতোমধ্যেই তাদের নিজেদের যুদ্ধবিরতির অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছেন। গত ৮ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৬০ জনে। আর ইসরাইলের ৪৩ সৈনিক এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে। এদের মধ্যে একজন থাইল্যান্ডের নাগরিক। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকালও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় ৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইল গতকাল সকালে গাজায় আবারও বোমা বর্ষণ শুরু করার পর সেখানে প্রচন্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রবিবার হামাসের পক্ষ থেকে ২৮টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন সৈন্যও নিহত হয়।
যুদ্ধবিরতির সময় গাজার বাসিন্দাদের বাইরে বের হতে দেখা গেছে। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ে বাইরে বের হয় এবং বাজারে ভিড় করে। এর আগে ইসরাইলের মন্ত্রিপরিষদ গাজায় ইসরাইলি আক্রমণে আরেকটি মানবিক যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করেছে বলে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের দিক থেকে অনুরোধের প্রেক্ষাপটে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই যুদ্ধবিরতি ২৪ ঘণ্টা বলবত থাকবে। তবে হামাসের দিক থেকে যদি এসময়ে কোন আক্রমণ করা হয় ইসরাইল সাথে সাথে তার পাল্টা জবাব দেবে। এর আগে শনিবার ১২ ঘণ্টার জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হলে হামাসের পক্ষ থেকে রকেট হামলা শুরু হয়। পরে হামাস যুদ্ধবিরতির ৪ ঘন্টার সমপ্রসারণ প্রত্যাখ্যান করে এবং বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চালায়। হামাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, কি পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা বোঝা গিয়েছে এবং এটিই তাদের ছক পরিবর্তনের কারণ। ১২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির সময় বিভিন্ন বিধ্বস্ত ভবন থেকে বহু মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। হামাস বলছে ইসরাইলকে যুদ্ধ পুরো বন্ধ করতে হবে। কেননা তারা এসব বিরতিকে আরও হামলার জন্য প্রস্তুতিমূলক সময় হিসেবে ব্যবহার করছে। হামাস আরো জানায়, গাজা থেকে সব ইসরাইলি সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং যারা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তাদের বাড়ি ফিরতে দিতে হবে। তাহলেই তারা রকেট হামলা পুরোপুরি বন্ধ করবে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই হামাস ২৪ ঘন্টার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।
