দুই নেত্রীই সংকট সমাধান করতে পারেন বাইরের কেউ নয়

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৭
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নিল ওয়াকার বলেছেন, সংসদ নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থা ও সংকট থেকে প্রধান দুই নেত্রীই উত্তরণ ঘটাতে পারেন। প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সদিচ্ছার উপর সংলাপ ও এর সমাধান নির্ভর করে। বাইরের কেউ বা জাতিসংঘ এ ক্ষেত্রে কখনো কিছু করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সবার জন্য সমান সুযোগ ও সব নাগরিককে প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো নিশ্চিত হতে পারে যদি দুই দল সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছে। গণ মাধ্যমে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাব আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী উপরোক্ত বক্তব্য দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘ডিকাব টক’ এ সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মাঈনুল আলম। সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর নাহার মন্টি স্বাগত বক্তব্য দেন। জাতিসংঘ প্রতিনিধি বলেন, ২০১৩ সালে নির্বাচন নিয়ে যে সংলাপ প্রক্রিয়া চলছিল ধর্মান্ধ মৌলবাদী গ্রুপগুলোর কর্মকাণ্ডের ফলে তা বাধাগ্রস্ত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে দুই দল মতবিরোধে তখন জড়িয়ে পড়ে। যা কোনভাবেই কাম্য ছিল না। যদিও তাদের রাজনৈতিক ইস্যুতেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তবে জাতিসংঘ এক্ষেত্রে সরাসরি কিছু করবে না, সময়ও বেঁধে দেবে না। আমরা দুই পক্ষকে একসাথে বসাতে পারি কেবল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি যা ছিল তা এখনো বিদ্যমান। নিল ওয়াকার আরো বলেন, নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের সীমা, নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এসব ইস্যু সমাধান করতে হবে। জাতিসংঘ এক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করবে কীনা তা এখনই বলা যাবে না। গাজা পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে নিল ওয়াকার বলেন, বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলো জাতিসংঘ পরিচালনা করে থাকে। সদস্যরাই কেবল সিদ্ধান্ত নিতে পারে জাতিসংঘের কি করা উচিত বা উচিত নয়। জাতিসংঘ নিজে থেকে কিছু করতে পারে না। জাতিসংঘের কোন ব্যর্থতাও নেই। তবে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের বিধান সমর্থন করে না। জাতিসংঘ মহাসচিব কোন মৃত্যুদণ্ডের ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেননি।