বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো খাগড়াছড়ির রিসাং ঝর্না-এর কথা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাকৃতিক যে ঝর্ণাগুলো রয়েছে তারই মধ্যে অন্যতম একটি হলো খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত রিসাং ঝর্নাা। মূল সড়ক থেকে নেমে খানিকটা উত্তরে গেলেই শোনা যায় ঝর্নার পানির শব্দ। এখানে পাশাপাশি দুটি ঝর্না রয়েছে যার মধ্যে পর্যটকদের সুবিধার জন্য একটি ঝর্নায় যাওয়ার জন্য পাকা সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। আর প্রথম এই ঝর্নাটি থেকে আরও প্রায় ২০০ গজ ভেতরে গেলে দেখা মেলে দ্বিতীয় ঝর্নাটির। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে রিসাং ঝর্নার এই স্থানটির দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। তবে একেবারে ঝর্নার উত্সমুখে যাওয়ার জন্য স্রেফ গাড়িতে বসে থাকলে চলবে না। বরং অল্পবিস্তর পথ পায়ে হেঁটেও চলতে হবে। রিসাং ঝর্নায় যেতে চাইলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে সকাল সকাল বাস বা চাঁদের গাড়িতে চড়ে বেরিয়ে পড়াই ভালো। ঢাকার দিককার রাস্তায় দশ কিলোমিটার পথ এভাবে এসে আলুটিলার গুহা পার হলেই মূল রাস্তা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে রিসাং। রিসাং ঝর্নার সৌন্দর্যের পাশাপাশি পাহাড়ি পথে দুই কিলোমিটার হাঁটাটাও কম মোহনীয় নয়। তাই একদিকে সবুজ পাহাড় ও পাহাড়ী মানুষের জীবনধারা আর অন্যদিকে হাজার ফুট নিচের উপত্যকার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এই পথটুকু খুব সহজেই হেঁটে যাওয়া যায়। রিসাং এর মূল প্রাকৃতিক ঝর্নাটি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ছে। আর একবার জলের ধারা নিচে পড়ার পর তা আরও প্রায় ১০০ ফুট পাথরের ওপর গড়িয়ে নেমে এসেছে সমতলে। মূলত ঝর্নাটির বিশেষ এই বৈশিষ্ট্যটির কারণেই অনেকে ঢালু এই পথে পিছল খেয়ে পড়ার মতো করে প্রাকৃতিক ওয়াটার স্লাইডিং করতে ভালোবাসেন। যদিও পাথুরে স্লাইড বলে পিছল খেয়ে নামার জন্য মোটা কাপড় বা ছালার মতো কোনো সামগ্রী ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া রিসাং ঝর্নার পাদদেশে যেখান থেকে ঝর্নার পানি সমতলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে সেখানে চাইলে সাঁতার কাটা বা গোসল করার সুবিধাও আছে।
