সৈয়দপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়েও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ধানের দাম না থাকায় কৃষকের হাতে বাড়তি নগদ অর্থ নেই। আর হাতে টাকা না থাকায় কৃষক পরিবারের সদস্যরা ঈদের কেনাকাটা করতে পারছে না। সে কারণে ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে কৃষকের।
উপজেলার কামারপুকুর ইউপির দলুয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের কৃষক হাসান ও আমিনুর জানান, ঈদ আসার আগেই ধানের বাম্পার ফলন দেখে মহাখুশি হয়েছে পরিবারের সদস্যরা। আশা ছিল এবার ধান বিক্রি করে ভালো অর্থ মিলবে। ঈদ পালনও ভালোভাবেই হবে। কিন্তু দাম না থাকায় আশায় গুড়েবালি হয়েছে। অথচ আর কয়েকদিন পর ঈদ। কিন্তু ধান ওঠার আগেই ধানের দরপতন হওয়ায় ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি। এবারের ঈদে সৈয়দপুরে অনেক কৃষক পরিবার ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকবে। বাজারে ধানের মূল্য পড়ে যাওয়ায় ঈদের বাজারে কৃষক পরিবারের সদস্যদের আনাগোনা নেই বললেই চলে।
ঈদ বাজারে যারা কেনাকাটা করছেন তাদের ৯০ শতাংশ মানুষই সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী পরিবার। শহরের নিউ ক্লথ মার্কেট, সৈয়দপুর প্লাজা, সুপার মার্কেট ও শহীদ ডা. সামসুল হক সড়কে তৈরি পোশাকের দোকান ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র মিলেছে।
উপজেলার নিউ ক্লথ মার্কেটের থ্যাংকস ক্লথ স্টোরের মালিক মো. একরামুল হক জানান, আশি ভাগ ক্রেতা গ্রামে বাস করে। তারা আর্থিক সংকটে বাজারে আসতে না পারায় বেচাকেনা রমজানের শেষভাগেও জমে ওঠেনি। সুপার শপিংমল সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটের তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী সাগর ও আইনুল মন্ডল জানান, ধানের ভালো ফলনের খবরে আমরা ব্যবসায়ীরা ফুরফুরে মেজাজে ছিলাম। মনে করেছিলাম এবার ধান কাটা মাড়াই মৌসুমে ঈদ-উল-ফিতর হবে। কেনাবেচায় হবে বাজিমাত। কিন্তু ধানের দাম না থাকায় আশার আলোয় কালো মেঘ জমে হতাশা ভর করেছে। ধানের দাম না থাকায় গ্রামের মানুষের ভিড় তেমন নেই। ধানের দাম নেই বলে কৃষক পরিবারগুলো মার্কেটমুখো হচ্ছেন না। এতে ঈদ বাজারের ব্যবসায় মন্দা চলছে।
