ঢাকার ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার প্লটগুলো এক বিঘার। শুরুর দিকে প্লটের মাঝখানে একতল বা দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ করা হতো। সামনে খোলা জায়গায় থাকতো ফুলের বাগান, লন, ব্যাডমিন্টন কোট ইত্যাদি। পেছনের খোলা জায়গায় হতো শাকসবজি, ফলের গাছ, ড্রাইভার বা অন্য কর্মচারীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা। সবই ছিল দৃষ্টি নন্দন। ক্রমে এই ধানমণ্ডিতেও ছয়তলার হুজুগ দেখা দিলো। একতল বা দ্বিতল বাড়ি ভেঙে ছয়তল করা হতে লাগলো। সামনে-পিছনের ফুল ফল বা সবুজ লন সব অনাবশ্যক বিবেচিত হলো। ১৯৯০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে এখন চৌদ্দতল বা আরো বেশি হতে শুরু করলো। ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য-সুষমা ও বিশুদ্ধতা কোথায় বিলীন হয়ে গেলো। অবশ্য কেবল ধানমণ্ডি নয়— গুলশান, বনানী, বারিধারা ও উত্তরাসহ অন্যান্য আবাসিক এলাকারও একই অবস্থা। ঢাকার পুরানো বলে চিহ্নিত এলাকার অবস্থা তো কহতব্যই নয়।
আমি আপাতত ধানমণ্ডির চিত্র তুলে ধরছি— জ্যামের জন্য গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ, আবর্জনার প্রাধান্য, ভঙ্গুর পয়ঃনিষ্কশন ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে যোগ হয়েছে স্কুল, কলেজ, চিকিত্সাকেন্দ্র ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের উত্পাত। পানীয়জলের অবস্থাও ভয়াবহ। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে খোলা জায়গা কমে গিয়ে ভূগর্ভে পানি পুনপূরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তায় পয়ঃনিষ্কাশনের ম্যানহোলগুলো পানি উপচিয়ে রাস্তা দুর্গন্ধময় হচ্ছে এবং বিটুমিনাস রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে সহজে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পৃথিবীর কোথাও একই আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন উচ্চতার ভবন নির্মাণে অনুমোদন দেওয়া হয় না। কারণ নিম্নতর তলা বিশিষ্ট ভবনের সামনে বা সূর্য চলাচলের দিকে উচ্চতর তলা বিশিষ্ট ভবন থাকলে নিম্নতর তলা বিশিষ্ট ভবন সূর্যালোক পাবে না, এমনকি ছাদে গিয়েও নবজাতক শিশুর জন্য অতি প্রয়োজনীয় ‘ভোরের সূর্যের আলো’ পাওয়া যাবে না। ছয় তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার সময়ই ভবিষ্যতে রাস্তা সম্প্রসারণ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের কথা ভেবে ভবনগুলোর সামনে ২০/২৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখা উচিত ছিল। পরিশেষে, উল্লিখিত সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে ঢাকা নগরীকে বাসের অনুপযোগিতা থেকে রক্ষাকল্পে সরকারকে এখনই ব্যবস্থা নিতে বিনীত অনুরোধ করছি।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম, বাড়ি-২৯, সড়ক-১৪/এ,
ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা ১২০৯
