বিশাল হাওর ‘বিল আকাশীর’ মাঝে সড়ক। দু’পাশে পানি আর পানি। চমত্কার পরিবেশ। এলাকাবাসী নাম দিয়েছে মিনি কক্সবাজার। ঈদকে কেন্দ্র করে মিনি কক্সবাজার নামে খ্যাত ধরন্তী-পুটিয়া ঘাট এখন হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারনায় মুখরিত।
ঈদের নামাজের পর পরই সেখানে যেতে শুরু করেন মানুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সব বয়সী মানুষ আসতে থাকে ধরন্তী-পুটিয়া ঘাট। গত দুই দিন ধরে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে সেখানে। দর্শনার্থীদের মধ্যে শিশু, কিশোর ও নারীর সংখ্যাই বেশি। বিনোদন কেন্দ্র গড়ে না ওঠায় ঈদ উত্সব ও পূজা পার্বণ এলেই কর্মস্থল থেকে ছুটিতে আসা বিনোদন প্রেমিরা একটু আনন্দের আশায় এখানে ভিড় করেন। এবারের ঈদ উত্সবেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
নাসিরনগর-সরাইল উপজেলার মানুষ ছাড়াও আশে-পাশের উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ আসছেন সেখানে। কেউ এসেছে কার, মাইক্রোবাস, মিনিবাস, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটর সাইকেলে আবার কেউবা এসেছে পায়ে হেঁটে। এলাকাটি যেন পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
এখানে বেড়াতে আসা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার খোকন নন্দী স্ত্রী ফিনু রানী দাস, ঔষধ কোম্পানির কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সহকারী জোনাল ইনচার্জ সরাইলের বাসিন্দা দুলাল সূত্রধর জানান, নাসিরনগর-সরাইলে কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় সবাই আমরা বিল আকাশীর বুকে এসেছি। নাসিরনগর-সরাইল সড়কে ধরন্তী-পুটিয়া নামক এলাকাটি উত্তরাঞ্চলের সৌর্ন্দয পিপাসু কয়েক লাখ মানুষের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে ইতিমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছে।
লাখাই-নাসিরনগর-সরাইল সড়ক বিল আকাশীর বুকে নির্মিত হওয়ায় হাওর বেষ্টিত কুন্ডা-পুটিয়া খেয়াঘাট এখন আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অসংখ্য প্রকৃতি প্রেমী উপভোগ করছে হাওরের মনোরম পরিবেশ। এ বিল ৬ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে আর ৬ মাস থাকে শুষ্ক। শুষ্ক মৌসুমে বিল আকাশীতে থাকে সবুজের সমারোহ আর বর্ষা মৌসুমে পানিতে থৈ থৈ করে। এসময় মনে হবে এ যেন বিল নয়, বিশাল এক সমুদ্র। সড়কের দুই পাশে শুধু পানি আর পানি। সড়কের গোড়ায় আঁছড়ে পড়ে বড় বড় ঢেউ। বইছে শন শন বাতাস- সব মিলিয়ে মন উথাল করা পরিবেশ। হাওরের জলে সাঁতার কেটে, নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে প্রাণ জুড়ান বিনোদন পিয়াসী মানুষ।
