চিতলমারীতে ধীরগতিতে চলছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম কর্মসূচি

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২২:১৫
বাগেরহাটের চিতলমারীর অধিকাংশ স্কুল-মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার উপযোগী ক্লাসরুম না থাকায় সরকারের ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষক প্রশিক্ষণের পর সরকারিভাবে দেয়া ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ বিভিন্ন উপকরণ। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪টি মাদ্রাসা ও ৪টি কলেজসহ ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের ডিজিটাল ক্লাসের আওতায় আনার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, মাউস, স্ক্যানিং মেশিন, পেনড্রাইভ, ইন্টারনেট মোডেমসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হলেও তা কোন কাজে আসছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে এসব যন্ত্রপাতির প্যাকেট এখনও খোলা হয়নি। শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের প্রাথমিক ধারণাটুকুও নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাঠদান কার্যক্রম আনন্দময় সহজবোধ্য ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প উদ্ভাবিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শিক্ষকদের দিয়ে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করার পদক্ষেপ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হয়। এক বছরপূর্বে তিন ধাপে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সরকার সরবরাহকৃত এসব যন্ত্রপাতি দেয়া হলেও এখনও নিয়মিতভাবে শুরু হয়নি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে কনটেন্ট তৈরি ও পাঠদানের জন্য ল্যাপটপ দেয়া হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজের ব্যক্তিগত কাজ ও বিনোদনের প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহার করছেন। সূত্র জানায়, উপজেলার ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষক প্রশিক্ষণ নেয়ার পর প্রকল্পের সকল উপকরণ গ্রহণ করেন। উক্ত প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে মধ্যে দু-একদিন ক্লাস করিয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানায়। বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক জানান, ৪/৫বছর আগে কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক এই বিদ্যালয়ে ৫টি কম্পিউটার ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রদান করা হয়। স্কুলে এসব কম্পিউটার থাকলেও শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ তো দূরের কথা বর্তমানে অকেজো অবস্থায় সেগুলো পড়ে আছে। চিতলমারী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠা-মোগত নানাবিধ সমস্যার কারণে এ প্রকল্পের আওতায় খুবই কম ক্লাস পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তবে এ বিদ্যমান অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারিভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরির জন্য পৃথক কক্ষের বরাদ্দ এখনও আসেনি। তাছাড়া উপজেলা ৯০ ভাগ মাদ্রাসার মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়ার জন্য অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নেই। তবে তিনি জানান, অতি শীঘ্রই প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।