টাঙ্গাইলের পুলিশ অফিসার এএসআই নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও টাঙ্গাইলে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী উল্কা বাহিনীর প্রধান নূর ইসলাম ওরফে উল্কা (৩৬) ও তার সহযোগী সাহেদ (৩০) মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের কদমা ঘোনাপাড়া গ্রামে পুলিশের সঙ্গে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অপর সন্ত্রাসী সাগরকে পুলিশ আটক করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি আখতারুজ্জামান এবং পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ তানবীর সাংবাদিকদের জানান, তারা গোপন সূত্রে জানতে পারেন পুলিশ অফিসার এএসআই নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উল্কা বাহিনীর প্রধান নূর ইসলাম ওরফে উল্কা তার দুই সহযোগী সাগর ও সাহেদকে নিয়ে কদমা ঘোনাপাড়া গ্রামের আজিজুর রহমান বাবুর বাড়িতে আত্মগোপন করে আছে। টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় যৌথবাহিনী সোমবার ভোররাতে ঐ বাড়িতে হানা দেয়। যৌথবাহিনীর অবস্থা টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপর গুলি চালায়। যৌথবাহিনীও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বন্ধুক যুদ্ধে উল্কা বাহিনীর প্রধান উল্কা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ অপর দুই সন্ত্রাসী সাগর ও সাহেদকে আটক করে পুলিশ। দুইজনকে প্রথমে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যালে মঙ্গলবার ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সাহেদ বুধবার মারা যায় বলে পুলিশ সূত্র জানায়।
নিহত নূর ইসলাম ওরফে উল্কার পিতার নাম মোঃ ফরিদ হোসেন, বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়। সাহেদ এবং সাগরের বাড়িও টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়। এ দিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে এসে সাহেদের মা রানী বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলে সন্ত্রাসী নয়। সে পেশায় একজন ট্রাক চালক। পুলিশ বিনাদোষে তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আহত সাগরের মা নিলুফা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, তার ছেলে সাগর অতিশ দিপংকর কলেজে ফার্মেসিতে পড়াশোনা করতো। ঈদের ছুটিতে। মামার বাড়ি বেড়াতে মির্জাপুরে কদমা গ্রামে আসছিল। তার ছেলেকেও পুলিশ অন্যায়ভাবে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
