গ্রিসে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত খামারিদের বেকসুর খালাস দিয়েছে একটি আদালত। বুধবার দেয়া এই রায়ে বাংলাদেশি কর্মীরা ন্যায়বিচার পায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির রাজনীতিক, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বর্ণবাদবিরোধী সংগঠনগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার গার্ডিয়ানের অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে দক্ষিণাঞ্চলীয় পেলোপোনিজের মানোলাদায় একটি স্ট্রবেরি খামারে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছিলো খামারিরা। ঐ ঘটনায় ২৮ বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়।
শুনানিতে খামারের মালিকেরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণের দায় স্বীকার করেছিলো। এরপরও তাদের খালাস দেয়ায় নিন্দা জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন মহল। এ রায়কে অনেকে দেশটির বিচার ব্যবস্থার এক কলঙ্কজনক অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছে। বিচারে দুই খামারিকে মুক্তি দেয়ায় দুর্দশাগ্রস্ত অভিবাসী শ্রমিকরা চোখের পানিতে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
গ্রিসের পশ্চিমাঞ্চলের বন্দরনগরী পার্টাসের আদালত রায় ঘোষণার পর হামলার শিকার শ্রমিকদের আইনজীবী মাওসিস কারাবায়িডিস বলেন, গ্রিসের একজন নাগরিক হিসাবে আমি লজ্জিত। এই রায় নিষ্ঠুর এবং অবমাননাকর। এর মাধ্যমে ঘটনার শিকার শ্রমিকদের প্রতি আদালত আতঙ্কজনক মনোভাব দেখিয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় অনেকে। রায়ে খামারের যে মালিককে খালাস দেয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। খালাস পাওয়া অন্য দুজনের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের নির্যাতন ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ঐ দুই জনকে ১৪ বছর সাত মাস ও আট বছর সাত মাস করে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিলো। এ রায়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্তরা আপিল করেছিলো, কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই তাদের মুক্তি দেয়া হলো। এ বিষয়ে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কট্টর বাম সাইরিজা পার্টির এমপি ভাসিলিকি কাত্রিভানৌউ বলেন, শ্রমিকদের ওপর গুলির ঘটনাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখার সুযোগ নেই।
