মালিকদের একপক্ষ অপর পক্ষকে বঞ্চিত করা, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করা, পৌর কর, গ্যাস বিল, ক্রয়কৃত পাটের দেনা, খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্নখাতে কোটি কোটি টাকা দেনা দেখিয়ে একপক্ষের স্বার্থ হাসিলের কারণে জেলার চৌমুহনীতে ডেলটা জুট মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে গেছে। মালিক পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে গত বছর থেকে পর্যায়ক্রমে চলতি বছরের জুনে মিলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
ডেলটা জুট মিলস লিমিটেডের মালিক পক্ষ মোহাম্মদ আবু জাহিদ বিল্লুসহ কয়েকজন মালিকের অভিযোগে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে ৬০ একর জমিতে জুট মিলটি গড়ে ওঠে। মিলটি ছিল লাভজনক। ৫৪১টি তাঁত ও প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী মিলে কর্মরত ছিল। মিলটি স্বাধীনতা উত্তর জাতীয়করণ ও পরবর্তীতে সরকার এবং পূর্বের মালিক পক্ষের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ৫৬.২০ শতাংশ শেয়ার মালিকদের ও ৪৩.৮০ শতাংশ শেয়ার সরকারের মালিকানায় রাখা হয়। পরবর্তীতে সরকারের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হলে জনৈক উদ্যোক্তা বিদেশি মুদ্রায় বাজার মূল্যে কিনতে চাইলেও মালিকদের একাংশের সাথে অসাধু সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নামমাত্র মূল্যে পুরো শেয়ার কিনে নেয়। এরপর থেকে সিংহভাগ মালিক হিসেবে মৃত হাজী আবদুর রব অপর মালিকদের এড়িয়ে চলতে শুরু করে ও নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, মিলটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ধীরে ধীরে চালু থাকা তাঁত বন্ধ করে দেয়া হতে থাকে। সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে ৬০ কোটি টাকা ঋণ, পৌর কর প্রায় ১ কোটি টাকা, গ্যাস বিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা, ক্রয়কৃত পাটের দেনা প্রায় ২ কোটি টাকা, খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন দেনা এবং লোকসান দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে চলতি বছরের জুনে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক-কর্মচারি বেকার হয়ে পড়ে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, জেলার একমাত্র বৃহত্ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হবে না। এছাড়া ডেলটা জুট মিলের বিশাল এলাকায় বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এর ফলেও হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। ডেলটা জুট মিলে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আকবর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে মিল বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মালিকদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার আমাদের জানার কথা নয়।
