যশোরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন যুবলীগ কর্মী মোকছেদুর রহমান ভুট্টো (৩৩)। আহত ভুট্টো শহরের কারবালা এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে ও যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। তবে পুলিশের দাবি, ‘গুলিবিদ্ধ নয়, ছাদ থেকে লাফিয়ে পালাতে গিয়ে পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন ভুট্টো। তার বিরুদ্ধে ১০-১২টি মামলা রয়েছে।’
আহত ভুট্টো জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পুলিশ তাকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। এরপর তাকে পুলিশ লাইনে নিয়ে চোখ বেঁধে ফেলা হয়। পরে তার পায়ে দু’টি গুলি করে পুলিশ। বিকেলে পুলিশ লাইন থেকে ভুট্টোকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই সাইফুল। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ছিলেন ডা. কল্লোল সাহা। প্রাথমিক অবস্থায় তিনি জানান, ভুট্টোর পায়ের একটি গুলি মাংশপেশী ভেদ করে বেরিয়ে গেছে, আরেকটি ভিতরে রয়েছে। এ সময় তিনি হাসপাতালের খাতায় ‘বুলেট ইনজুরি’ লিপিবদ্ধ করতে গেলে এসআই সাইফুল বাধা দিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। পরে হাসপাতালের খাতায় লেখা হয়েছে ‘ইনজিওর্ড ইনকয়ারি’। পরে হাসপাতালের অর্থপেডিক্স সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলী জানান, যশোর হাসপাতালে তাকে চিকিত্সা সেবা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভুট্টো দাবি করেন, প্রায় তিন মাস আগে পুলিশ তার সহোদর জেলা ছাত্রলীগের সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজকেও একইভাবে পায়ে গুলি করে। যশোরের নবাগত পুলিশ সুপার আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ নিয়ে অপর পক্ষের নেতাকর্মীদের ধরে ধরে গুলি করছে। ভুট্টো বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়েরকৃত। আর সব মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। ঈদের কিছুদিন আগে তিনি জামিনে জেল থেকে ছাড়া পান।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল ইসলাম জানান, ভুট্টোকে আটকের জন্য পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালালে সে নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এতে সে পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
প্রসঙ্গত, যশোরে গত চার মাসে অন্তত ২৮টি ক্রসফায়ারে ৩ জন নিহত ও ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে গত প্রায় এক মাস ‘কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনা’ বন্ধ ছিল।
