ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে নিহত ২ আহত চার শতাধিক

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২৩:১০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে ৪ দিনে পৃথক ১২টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও অন্তত ৪ শতাধিক আহত এবং ৭৫টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিজয়নগরে উপজেলা ভবন নির্মাণের জায়গার জাল দলিল করা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি বাবুল আকতারের লোকজন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইছাপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আকতারের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ৪০ জন আহত হয়। এদিকে উপজেলার ডালপা গ্রামের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৩০জন আহত হয়। আশুগঞ্জ উপজেলার খলাপাড়া গ্রামে রিকশা ভাড়া নিয়ে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ২৫জন আহত হয়। ভাংচুর হয় কয়েকটি বাড়ি-ঘর। বাঞ্ছারামপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১জন নিহত ও ১২জন টেঁটাবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হয়। উপজেলার ছয়ানী গ্রামের দক্ষিণ এবং উত্তর পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-বাঞ্ছারামপুর সড়ক যোগাযোগ প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। নাসিরনগরে পৃথক সংঘর্ষে দেড় শতাধিক লোক আহত হয়। সোমবার আশুরাইল এবং মকবুলপুর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে দু’পক্ষের নারীসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়। নবীনগরে ঈদের দিন ও পরদিন পৃথক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। ঈদের দিন সকালে উত্ত্যক্তের জের ধরে রাতনপুর ও খাগাতুয়া দু’গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। একই সময়ে গোপালপুর গ্রামে উত্তরপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার যুবকদের মধ্যে নামাজ পড়া নিয়ে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। এছাড়াও ঈদের দিন বিকেলে শ্যামগ্রাম বাজারে চা খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে ১০ জন এবং ঈদের পরদিন শ্রীঘর গ্রামে বিয়েকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গোলাপী বেগম (৫৫) নিহত হয় ও ২০ জন আহত হয়। এদিকে সোমবার সরাইলে রানিদিয়া গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। এ সময় ৫৫টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটতরাজ হয়। অন্যদিকে মঙ্গলবার সদর উপজেলার দারমা গ্রামের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৩০জন আহত হয়। ঈদগা মাঠে কথা কাটাকাটির জের ধরে হাজী বাড়ি ও চকিদার বাড়ি এবং বলার গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দু’পক্ষের ৩০জন আহত হয়। ভাংচুর হয় ১টি বাড়ি।