অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিবাদ আর সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের মানুষ হিসাবে লজ্জা প্রকাশ করতে কলকাতার বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী গত ২১ বছর ধরে রমজানের সময়ে রোজা রেখে চলেছেন। তার নাম সঞ্জয় মিত্র। তিনি এমন এক পরিবারের সন্তান যাদের বাড়িতে ১২৫ বছর ধরে দূর্গাপুজা হয়ে আসছে। খবর বিবিসির।
সঞ্জয় মিত্র বিবিসিকে জানান, বেশীরভাগ দিনই তিনি বাড়িতে ইফতার করেন, তবে মাঝে মাঝে একটি দোকানেও যান। বিবিসি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে বলতে পাশের মসজিদে শুরু হল মগরিবের আজান। তখনই ইফতার করে দীর্ঘদিনের চেনাপরিচিতদের সঙ্গে রোজা ভাঙ্গলেন সঞ্জয় মিত্র। দোকানের মালিক মুহম্মদ নঈমুদ্দিন, এক কর্মী মুহাম্মদ জমিরুদ্দিনের সঙ্গে একই প্লেট থেকে কলা, পাকা পেপে, শশা, খেজুর আর তরমুজ নিয়ে ইফতার করেন তিনি। এই হিন্দু বন্ধুর রোজা রাখাতে একটুও অবাক নন দোকান মালিক নঈমুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্রথম যখন শুনি সঞ্জয়দা রোজা রাখেন, শুনে খুব ভাল লেগেছিল যে একজন মুসলমানের মতোই তিনিও রোজা রাখেন। রোজা সবাই রাখতে পারে। হিন্দুদেরও তো বিভিন্ন পুজার উপোস থাকে।’
কখনও বাড়িতে ফল বা রুটি খেয়ে, কখনও বা হালিম খেয়ে গত একুশ বছর ধরে রোজা ভাঙ্গছেন সঞ্জয়। তিনি জানান, অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরে প্রতিবাদ হিসাবেই রমজান মাসে রোজা রাখতে শুরু করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় আমি দিল্লিতে থাকতাম। খুব অসহায় লাগছিল হিন্দু হিসাবে। একজন সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের মানুষ হয়ে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তখনই ঠিক করি যে আমি নিজেই প্রতিবাদ করব।’
বামপন্থী আন্দোলনে যখন যুক্ত ছিলেন, তখন যদিও দাঙ্গার সময়ে মুসলমান মহল্লায় গিয়ে সবাই মিলে রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠরা যখন বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলেছে, তার প্রতিবাদটা তিনি একান্তই নিজস্ব কায়দায় করে চলেছেন।
