প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে দেশবাসী বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
মঙ্গলবার ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ এবং বিচারপতি ও কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এখন আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি। তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমরা বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারলে এদেশে কোন ক্ষুধা ও দারিদ্র্র্য থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে একদিকে দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে অপরদিকে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। তিনি বলেন, এবার রাজধানীর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কোন রকম সমস্যা ছাড়াই রমজানে জনগণ গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে এবং তারা গভীর উত্সাহ উদ্দীপনার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছে। ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ঈদ উপলক্ষে জনগণের ঘরেফেরা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশবাসী সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারছেন, নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছেছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আল্লাহর রহমতে রমজান মাসে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, মার্কেট ও শপিংমলগুলো গভীর রাত পর্যন্ত খোলা ছিল এবং সর্বস্তরের নারী-পুরুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কেনাকাটা করেছে। শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে ঈদ উত্সব উদযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দেশবাসীর সেবা করার একটি সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে দেশে দারিদ্র্যের হার এক শতাংশ কমেছে। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দারিদ্র্যের হার ৩১ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের জন্য সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা। আমরা দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করে জনগণের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।
ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে আসা সমাজের সর্বস্তরের জনগণের জন্য গণভবনের গেট সকাল সাড়ে ৯টায় খুলে দেয়া হয়। ঈদের নামাজের পরে তারা এখানে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে গণভবনে প্রবেশ করেন। গণভবনের সবুজ চত্বরের বিশাল প্রাঙ্গণ শামিয়ানা টাঙিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়। শুরুতে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় বিচারপতিগণ, সিনিয়র বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের মিষ্টান্ন, ফলমূল, সমুচা, কাবাব, সেমাই এবং চা দিয়ে আপ্যায়ন করেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও কিছু দর্শনার্থী শুভেছা বিনিময় সুযোগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দুঃখ-দুর্দশা ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তা সমাধানে তার সহযোগিতা কামনা করেন।
সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, কেন্দ ীয় নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সিনিয়র বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, আমেরিকা, ইউরোপ ও সার্কভুক্ত দেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি তাদের জন্য ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর ও কন্ট্রোলার আবুল বাসার জুয়েল ঈদের দিন দুপুরে এই উপহার রাজধানীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেন। এ সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
নিজ কার্যালয়ে অফিস
করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের ঈদের ছুটি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তার তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী ঈদের ছুটি শেষে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টায় প্রথম অফিস করেন। অফিসে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দৈনন্দিন কাজের খোঁজখবর নেন।
