ঈদগাহ যেন জনসমুদ্র

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২৩:৫৮
ঈদুল ফিতরের দিনে সকাল নয়টার মধ্যেই ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এরপরও দলে দলে মুসল্লিরা মাঠ অভিমুখে আসতেই থাকে। মাঠে ঠাঁই না পেয়ে তারা অবস্থান নেয় আশ-পাশের খোলা জায়গায়, বাড়ির উঠানে কিংবা ছাদে এবং মাঠের তিন দিকের রাস্তার ওপর। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ অভিমুখে জনসে াত শুরু হয়। পরপর তিনদিন বৃষ্টির পর ঈদুল ফিতরের দিনে আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে ছিল। ফলে মুসল্লিদের সমাগম অন্য বছরের সব রেকর্ডকেও যেন ছাড়িয়ে যায়। দেখতে দেখতে মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। ২/৩ দিন পূর্ব থেকেই মুসল্লিদের আগমন ঘটতে থাকে এ শহরে। তারা শহর ও শহরের আশ-পাশের মসজিদ কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে এসে অবস্থান নেয়। ভোর রাত থেকে শত শত মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরকিশা, টমটম, মোটরসাইকেলযোগে মুসল্লিরা শহরে প্রবেশ করে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে হিমসিম খেতে হয়। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি স্পেশাল ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা হয়। ভোর ছ’টায় ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে সকাল আটটায় এসে ট্রেনটি কিশোরগঞ্জ পৌঁছায় এবং অপর ট্রেনটি পৌনে ছ’টায় ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে সকাল আটটায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। পরে বেলা ১২টায় উভয় ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিভিন্ন প্রবেশ মুখ দিয়ে মুসল্লিরা মাঠে প্রবেশ করেন। র্যাব, আর্মড পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর নিরাপত্তাকর্মীরা সারা মাঠ জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সকাল দশটায় নামাজ শুরু হয়। এবছর শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল ফিতরের ১৮৭তম জামাত। দেশের সর্ববৃহত্ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এই ঈদগাহে। রীতি অনুযায়ী নামাজ শুরুর পনের মিনিট আগে শটগনের ৫টি, পাঁচ মিনিট আগে ৩টি ও এক মিনিট আগে ১টি ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মুসল্লিদের নামাজের প্রস্তুতির জন্য সতর্কীকরণ সংকেত দেয়া হয়। স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে একটি বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে যে, পরপর তিনটি ঈদে এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পারলে একবার হজ্বব্রত পালনের পুণ্য লাভ হয়। তাই অনেকে শোলাকিয়াকে ‘গরীবের মক্কা’ বলে অভিহিত করে থাকেন। মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য শোলাকিয়া ঈদগাহের পাশেই ছোট্ট পরিসরে পৃথক ব্যবস্থা করা হয়। নামাজ শুরুর পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাবউদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান ও জেলা প্রশাসক এস. এম আলম। এবছরও জামাতে ইমামতি, খুতবা পাঠ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। অন্য বছরের মতো এবারও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ‘চ্যানেল আই’ শোলাকিয়া ঈদগাহ থেকে সরাসরি ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। ঈদকে কেন্দদকে স্বাগত জানিয়ে নির্মাণ করা হয় অনেক সুদৃশ্য তোরণ। প্রতি বছরের মতো এবছরও ঈদগাহ সংলগ্ন মাঠে বসেছিল লোকজ দ্রব্যাদির মেলা।