ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিনিয়র রাজনীতিক নটবর সিং কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী সম্পর্কে একটি প্রকাশিতব্য আত্মজীবনীতে বিস্ফোরক মন্তব্য করে দিল্লিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। ‘ওয়ান লাইফ ইজ নট এনাফ’ শীর্ষক আত্মজীবনীতে তিনি দাবি করেছেন, ‘অন্তরাত্মার ডাকে’ নয়, বরং পুত্র রাহুলের তীব্র আপত্তিতেই ২০০৪ সালে প্রথম ইউপিএ সরকারের প্রধামন্ত্রীর পদে বসতে পারেননি সোনিয়া গান্ধী। ২০০৫ সালে ইরাকের খাদ্যের-বিনিময়ে-তেল সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে হইচই শুরু হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল নটবরকে। সে সময় থেকেই গান্ধী পরিবারের থেকে তার দূরত্ব শুরু হয়। ২০০৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে দেন তিনি।
বুধবার নটবর বলেন, রাহুল মনে করতেন, প্রধানমন্ত্রী হলে মাকেও তার বাবা ও ঠাকুমার মতো খুন হতে হবে। রাহুলকে ওই অবস্থান থেকে নড়ানো যায়নি। রাহুলের বয়স তখন ছিল ৩৪ বছর। নটবর জানিয়েছেন, ২০০৪ সালের ১৮ মে একটি বৈঠকে মনমোহন সিং, গান্ধী পরিবারের বন্ধু সুমন দুবে এবং তাকে রাহুলের মনোভাবের কথা জানান সোনিয়া-কন্যা প্রিয়াঙ্কা।
জানা গেছে, নটবরের আত্মজীবনী ‘ওয়ান লাইফ ইজ নট এনাফ’ এর প্রকাশের দিন এগিয়ে আসছে। সেখানে ওই ঘটনার কথা উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিলেন তিনি। তবে নটবরের দাবি, তাকে ওই কাজ না-করার অনুরোধ জানাতে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে সোনিয়া নিজে তার বাড়ি এসেছিলেন। ইউপিএ-১ সরকারে নটবরকে কী ভাবে ‘হেনস্থা’ করা হয়েছিল, তা শোনার পর সোনিয়া নাকি জানিয়েছিলেন, তিনি ও সবের কিছুই জানতেন না। কিন্তু নটবর সোনিয়াকে বলেন, ‘কংগ্রেস দলে এবং সরকারে আপনাকে না জানিয়ে কিছুই হয় না।’
এদিকে, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বৃহস্পতিবার নটবর সিংয়ের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। সরাসরি তার বক্তব্য নিয়ে কোনও মন্তব্য না করে সোনিয়া জানান, তিনি তার নিজের আত্মজীবনী লিখবেন। সেখানেই আসল সত্যিটা বের হবে। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমি এই বিষয়টি দেখছি এবং দ্রুত লেখা শুরু করবো। আমি আর এই সব মন্তব্যে আহত হই না। আমি আমার শাশুড়িকে বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যেতে দেখেছি। স্বামীকে খুন হতে দেখেছি। তাই এই সব বিষয়ে দুঃখ পাওয়া থেকে আমি অনেক দূরে চলে গেছি। ওদেরকে এসব চালাতে দিন। এই সব ঘটনা আমাকে আর প্রভাবিত করে না। ওদের যদি ইচ্ছা হয় ওরা এসব চালিয়ে যান।’
