পটিয়ায় বিসিক শিল্প কারখানার রুগ্ন দশা, হচ্ছে না সংস্কার

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:২০
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) চট্টগ্রামের পটিয়া শিল্প জোন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ না হওয়ায় শিল্প-কারখানাগুলোর রুগ্ন দশা। কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের ২ কোটি টাকার চাহিদা পত্র মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে পাঠালেও কয়েক বছর মন্ত্রণালয়ে ফাইলটি লাল ফিতায় বন্দি রয়েছে। এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ অতিদ্রুত উন্নয়ন কাজ করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়কের পটিয়া শ্রীমাই ব্রীজের দক্ষিণাংশে বাংলাদেশ শিল্প ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) পটিয়া জোন গড়ে তোলা হয়। ১০.৫৪ একর জমির ওপর এই বিসিক শিল্প নগরী। তার মধ্যে মোট বরাদ্দযোগ্য ৮.৪৮ একর জমির মধ্যে ৭৭টি প্লট তৈরি করা হয়। বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্প ছাড়াও ২০টির অধিক কারখানা উত্পাদনে রয়েছে। এশিয়া পাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি তাদের প্লটটি দীর্ঘদিন ফেলে রাখলেও বর্তমান কাজ শুরু করেছেন। আরেফিন টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেডের পরিচালক ইমাম হোসেন চিশতী ও জেনারেল ম্যানেজার যদু রঞ্জন চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পটিয়া বিসিক শিল্প নগরী থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা, বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, পটিয়া বিসিক শিল্প নগরীটি প্রথম শ্রেণীর পটিয়া পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত। এখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আদায় করে থাকেন। কিন্তু আলোকসজ্জা, নর্দমা পরিষ্কার সামান্য করা ছাড়া এ পর্যন্ত পৌর কর্তৃপক্ষ কোন উন্নয়ন কাজ করেনি। তাছাড়া নেশায় আসক্ত বহিরাগত বখাটেদের কারণে দিনে ও রাতে গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকরা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছেন। বিসিক শিল্প এলাকার অভ্যন্তরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও নিত্যদিনের বৃষ্টির পানি জমে থাকার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিদিন চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাছাড়া বিসিক শিল্পাঞ্চলের পশ্চিমাংশে বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙা থাকার কারণে কয়েক হাজার মহিলা শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও শিল্প মন্ত্রণালয় কিংবা উন্নয়ন সংশ্লিষ্টরা এই অঞ্চলের উন্নয়নে নজর দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ শিল্পোদ্যোক্তাদের। প্রায় প্রতিদিন দেশ-বিদেশের ক্রেতারা গার্মেন্টস শিল্প পরিদর্শন করতে আসছেন। নালা-নর্দমা ও ভাঙা বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কার না করায় শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিসিক শিল্পের আরেফিন টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেডের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার দলীয় সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি (এমপি) আবেদনের বিষয়টি দেখভাল করার জন্য উল্টো পাঠিয়ে দিয়েছেন পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদের কাছে। রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমাসহ বিসিকের মূল উন্নয়নের বিষয়টি পৌর মেয়রের এখতিয়ারের বাইরে থাকায় এসব সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তা সমীরন বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যার কারণে ২৪টি কারখানার মধ্যে ১২টি উত্পাদনরত। বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা এসে বিসিক শিল্পের এ অবস্থা দেখে অনেকে মালামাল না দেখেই চলে যায়। এতে শিল্প মালিকদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।