পদ্মার তীরে বিনোদন পিয়াসিদের ঢল

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:২৪
ঈদের দিন থেকে রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র পদ্মার তীরে বিনোদন পিপাসু লাখো মানুষের ঢল নামছে। নগরীর পুলিশ লাইন সংলগ্ন বটতলা, শ্রীরামপুরস্থ টি-বাঁধ থেকে পঞ্চবটিস্থ আই বাঁধ পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় মানুষের ভিড় থাকছে। ঈদের লম্বা ছুটির শেষ পর্যায়ে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত ছিল না। ছুটিতে নগরীতে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম। কিন্তু পদ্মার তীরে বিনোদন পিয়াসি মানুষের অস্বাভাবিক ভিড় যেন ঠিক উল্টো চিত্র। এদিকে ভরা পদ্মায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউ কেউ নৌকা ভ্রমণে বের হচ্ছেন। আবার কেউ নদীর তীরে বসে বন্ধু-বন্ধব নিয়ে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকছে মানুষের কোলাহল। ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের ছুটি শেষ হবে আজ শনিবার। টানা ছুটিতে প্রতিদিনই মানুষের ঢল নামে পদ্মার তীরে। কর্মব্যস্ততার পরিবর্তে যেনো চারপাশে কেবল স্বজনদের মিলন মেলা। ঈদের ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার অফিস-আদালতের কার্যক্রম শুরু হলেও অনেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন রবিবার থেকে কর্মস্থলে যোগ দেয়ার। তাই রাজশাহীতে ছুটির আমেজ এখনো কাটেনি। রাজশাহীতে হাতেগোনা কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র থাকলেও মানুষের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে পদ্মার তীর। ছোট-বড় সবার কাছে সমান পছন্দ এই পদ্মার তীর। তবে লাখো মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদ্মার তীরে বেড়াতে আসা অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়ছেন। মানুষের ভিড় ও গরমে প্রতিদিন কেউ না কেউ জ্ঞান হারাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পদ্মার তীরে বেড়াতে এসে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন নগরীর উপ-শহরের গৃহবধূ শম্পা হক। তবে ঈদের দিন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, শহীদ জিয়া শিশুপার্ক, আই ও টি বাঁধ, বড়কুঠি, শিমলা পার্ক, পদ্মা গার্ডেন, ভদ্রা পার্ক, আম চত্বর বাইপাসসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠে। এদিন চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্কে প্রবেশ ‘ফ্রি’ থাকায় উভয় বিনোদন কেন্দ্রের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা এমনকি আশ-পাশের জেলার মানুষ পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস ভাড়া করে মহানগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছুটে আসে। অন্যদিকে বিনোদন পিপাসু মানুষের ভিড়ের কারণে পদ্মা তীরে চটপটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মৌসুমী ফল, ভাজা, বাদাম বিক্রেতাদের ব্যবসাও জমে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্রিতে ব্যস্ত থাকছে এসব ফুটপাতের বিক্রেতারা। পদ্মার তীরের চটপটি বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, ঈদের দিন বিকেল থেকে প্রচুর ব্যবসা হচ্ছে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাভ করছেন। তার একার নয়, সব বিক্রেতারই একই অবস্থা। আব্দুস সালাম বলেন, ‘তার মতো পদ্মার তীরের অন্য ব্যবসায়ীরা দুই ঈদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এ সময় ব্যবসা করে বেশি লাভ করা যায়। কিন্তু অন্য সময়ে অতো লাভ হয় না। ক্রেতার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।’