জুরাছড়ি উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুগুলো সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ২০১২-১৩ অর্থ বছরে প্রকল্প হাতে নিলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে থমকে আছে। প্রকল্পটি যথাযথ বাস্তবায়িত না হওয়ায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দাখিল সংস্থার দাবি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠালেও, বরাদ্দের অভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের মধ্যে লেবার পাড়া হতে বালিশ পাড়া পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন, থানা সংলগ্ন ডেবাছড়া সংযোগ রাস্তার ব্রীজ নির্মাণ এবং বালুখালী হতে সামিরা রাস্তা উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের কথা ছিল। এর মধ্যে ২০১২-১৩ বছরে এ সব প্রকল্পের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থানা সংলগ্ন ডেবাছড়া সংযোগ রাস্তার ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১০ লক্ষ বরাদ্দ পাওয়া যায়। এসব বরাদ্দের বিপরীতে দু’পাশে দুটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। তবে দু’টি কালভার্টের মাঝখানে ২ শ’ ২২ ফুট দূরত্ব মাটি ভরাট কাজ অসমাপ্ত রাখা হয়। ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও ২ শ’ ২২ ফুট সাঁকো বেয়ে পারাপার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। ফলে এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে উঠেছে। অনেক সময় সাঁকো দিয়ে উঠতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকার লোকজন। তাই সড়কটি পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানিয়েছে।
লুলাংছড়ি মৌজার হেডম্যান মায়া নন্দ দেওয়ান বলেন, এ সংযোগ সেতুটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসীর যোগাযোগ ও উত্পাদিত কাঁচামাল বাজারজাতকরণে সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর এতে এখানকার মানুষের আর্থিক উন্নয়ন ঘটবে।
জুরাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা বলেন, এই সড়ক দিয়ে চার ইউনিয়নের জনসাধারণ যাতায়াত করে। সড়ক ও সেতুগুলোর কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অসম্পূর্ণ কাজগুলো বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসীর যাতায়াতের অনেক সুগম হবে এবং এই সড়ক দিয়ে তাদের উত্পাদিত কাঁচামাল রাঙ্গামাটিতে অনায়াসে নিয়ে আসতে পারবে।
ডেবাছড়ার বাসিন্দার ধনরতন চাকমা বলেন, এমপি, মন্ত্রী সফরে এলে রাস্তা সংস্কার কিংবা উন্নয়নের হিড়িক পড়ে। এখন আর মন্ত্রীও সফরে আসে না রাস্তা উন্নয়নও হয় না। অথচ দুই বছর আগে এই কাজ শুরু করা হলেও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
লুলাংছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতা চাকমা বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। যখন গাড়ীতে উঠি, তখনই ভগবানের নাম স্মরণ করি। বেশি সমস্যা পড়তে হয় রোগী নিয়ে যাতায়াত করতে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিয়ে যাওয়া হয় ঝুঁকি নিয়ে।
স্থানীয় কৃষক বিকাশ জ্যোতি চাকমা (৪৫) জানান, সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ হওয়ায় এলাকার উত্পাদিত শাকসবজি ও কৃষিপণ্য উপজেলা সদর বাজার, সুবলং বাজার ও রাঙ্গামাটি শহরে নিতে গিয়ে উত্পাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এ কারণে তাঁদের আর্থিকভাবে লোকসান গুনছে।
পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিরঞ্জন নাথ বলেন, প্রতি বছর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়ে থাকি। তার পরেও কর্তৃপক্ষের কোন বরাদ্দ দিচ্ছে না। ফলে বরাদ্দের অভাবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা বলেন, এ সেতুটি উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি। অসম্পূর্ণ কাজটি বাস্তবায়নের উপজেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কাছে আবেদন করে যাচ্ছে।
