টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৯শ একর সরকারি খাস সম্পত্তি প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যাওয়ায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দখল হয়ে যাওয়া এই সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। উপজেলা ভূমি অফিস সরকারি সম্পত্তি দখল হওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, প্রভাবশালী মহল এই সম্পত্তি দখল করায় এগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খাল, বিল ও নদী-নালার আশপাশ এবং উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সরকারি সম্পত্তির উপর প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলার পৌরসভা এবং অপর ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ৪শ একর সরকারি খাস সম্পত্তি রয়েছে। এই সরকারি খাস সম্পত্তির মধ্যে প্রায় ৯শ একর সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন অজুহাতে দখল করে বসবাস করছে। সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে মির্জাপুর বাজার, পৌরসভার কুমারজানি মৌজায় ৪৩৮ দাগে এবং বাইমহাটি মৌজায় ৩৫১ ও ৩৫২ দাগের সরকারি খাস সম্পত্তি। এর পরে রয়েছে গোড়াই, আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর, মহেড়া, ফতেপুর, জামুর্কি, বানাইল, আনাইতারা, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, ভাওড়া ও বহুরিয়া ইউনিয়নে। কখনো নামে আবার কখনো বেনামে এ সরকারি সম্পত্তি দখল হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট সূত্র উল্লেখ করেন।
অপরদিকে উপজেলার উত্তরে বংশাই নদীর আশপাশ এবং দক্ষিণে লৌহজং নদীর আশপাশ ও চর দখল করে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালীরা ঘরবাড়ি এবং ইটভাটা স্থাপন করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে পুষ্টকামুরি চরপাড়ার খাল, বাইমহাটির উপর দিয়ে আসা খাল রাতারাতি দখল করে ঘরবাড়ি গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা । ফলে শহরের পয়ঃনিষ্কাশন হুমকির মুখে পড়েছে। এখনো দখলের প্রতিযোগিতা চলছে বলে ভূমি অফিস জানায়। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য সচেতন মহল জোর দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন সুলতানা বলেন, যারা সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে তারা বেশ প্রভাবশালী। তারা ক্ষমতার দাপট এবং ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিত আকারে অবহিত করা হয়েছে। তারপরও মির্জাপুর সাহাপাড়া এবং বহনতলী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের এ উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
