বাংলার আপেল নামে খ্যাত স্বরূপকাঠি জাতের পেয়ারা এখানকার চাষীরা উত্পাদন করে আসলেও সংরক্ষণের অভাব ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন চাষীরা।
উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, আদমকাঠী, ধলহার, কঠুরাকাঠি, আন্দাকুল, জিন্দাকাঠি, ব্রাহ্মনকাঠি, আতা, জামুয়া, মাদ্রা ঝালকাঠি, শশীদ, পূর্ব জলাবাড়ী, আদাবাড়ি ও জৌসারসহ বিভিন্ন গ্রামের ৬৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষাবাদ হয়। পেয়ারার চাষাবাদ ও বিপণন ব্যবস্থার সাথে প্রায় ৮/৯ হাজার শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে।
ব্রাক্ষনকাঠি গ্রামের চাষী বিশ্বজিত চৌধুরী (৩২) জানান, এ বছর পেয়ারার ফলন গত বছরের তুলনায় কম এবং অনাবৃষ্টির কারণে উত্পাদিত পেয়ারাগুলো আকারে কিছুটা ছোট এবং ফলও এসেছে বিলম্বে। পেয়ারা উত্পাদন খরচ বেশি কিন্তু দাম কম। পেয়ারা চাষী ও আটঘর কুড়িয়ানা ইউপি সদস্য বাবুল মণ্ডল জানান, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে পেয়ারা প্রসেসিং করে বিদেশ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
বর্তমানে পেয়ারা পাইকারিভাবে মণ প্রতি ১৫০/২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেয়ারার এ মৌসুমে ঢাকা, চাঁদপুর, কুমিল্ল¬া, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, খুলনা, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের এক শ্রেণির পাইকাররা এখান থেকে সরাসরি পেয়ারা ক্রয় করে নিয়ে যায়। অপরপক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে অপর এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন শত শত মণ পেয়ারা এখান থেকে লঞ্চ, ট্রলার ও ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান দিচ্ছে। যুগ যুগ ধরে পেয়ারা চাষাবাদ করে আসলেও উদ্যোক্তার অভাবে হিমাগারসহ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে না ওঠায় ও পাশাপাশি উত্পাদন খরচ দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছে স্বরূপকাঠির পেয়ারা চাষীরা ।
