খুলনায় বন্ধ হয়ে গেছে তিনটি পাটকল

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৪
খুলনার পাটকলগুলোতে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন পাটকলগুলোর মধ্যে ৩টি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরো কয়েকটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম। মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রাষ্টায়াত্ত পাটকলগুলিও অর্থসংকটে পড়েছে। চলতি মূলধন বা পুঁজির অভাব, মিলে উত্পাদিত পণ্যের বিপণন সমস্যাসহ নানা কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-যশোর অঞ্চলে ব্যক্তি মালিকানাধীন পাটকল রয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে ৩টি বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধের তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে মহসেন জুটমিল। কয়েক দফায় ৩৯০ দিন লে-অফ করে রাখার পর গত ১৭ জুলাই মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মিলগুলো বন্ধের জন্য বেশ কয়েকটি কারণের কথা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মিলে উত্পাদিত পণ্য অবিক্রিত থাকা, উত্পাদন খরচের তুলনায় পণ্যের বিক্রি মূল্য কম হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, সময়মত মিলে প্রয়োজনীয় কাঁচা পাট সংগ্রহ করতে না পারা, বিদ্যুত্ বিল বকেয়া থাকা, শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করতে না পারা উল্লেখযোগ্য কারণ হিসাবে বলা হয়েছে। এদিকে গত প্রায় ৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে খুলনার ব্যক্তি মালিকানাধীন সোনালী ও এ্যাজাক্স জুটমিল। এ্যাজাক্স জুটমিলে স্থায়ী ১ হাজার ৬শ’ শ্রমিক-কর্মচারীর পাশাপাশি আরও প্রায় দেড় হাজার অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছে। সোনালী জুটমিলে প্রায় ৩ হাজার স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীর সঙ্গে আরও অন্তত ২ হাজার অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঈদের আগে বন্ধ থাকা এ পাটকল দুইটির শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা এবং বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু মালিকদের সাথে দেনাপাওনার পরিমাণ নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়ায় শ্রমিক-কর্মচারিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ঈদের ২দিন আগে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এর আগেও তারা পাটকল চালু করাসহ বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে মিছিল, পথসভা, মশাল ও লাঠি মিছিলের মত নানা কর্মসূচি পালন করে। পাওনা না পেয়ে পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ। ব্যক্তি মালিকানাধীন পাট, সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ঈদের আগে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন আলীম ও আফিল জুট মিলের অবস্থাও শোচনীয়। এগুলি কিছুদিন বন্ধ থাকছে, আবার কিছুদিন পর পর আবার চালু হচ্ছে। অন্যদিকে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোতে অর্থসংকটের পাশাপাশি নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এ অঞ্চলের রাষ্ট্রায়াত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে ৭টিতেই গত কয়েক মাস ধরে শ্রমিক মজুরি বকেয়া পড়ছে। এগুলো হচ্ছে ক্রিসেন্ট জুটমিল, প্ল¬াটিনাম জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, স্টার জুটমিল, আলিম জুটমিল, ইস্টার্ন জুটমিল ও যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ (জেজেআই)। ঈদের আগে অবশ্য তাদের পাওনার একটি বড় অংশ পরিশোধ করা হয়েছে। বকেয়া নেই শুধু খালিশপুর জুটমিল ও কার্পেটিং জুটমিলের। সূত্র মতে, খুলনা-যশোর অঞ্চলের ব্যক্তি মালিকানা ও রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোতে চলতি মূলধনের অভাব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সমস্ত পাটকলে উত্পাদিত পণ্যের প্রায় পুরোটাই অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেক কমে গেছে। তাছাড়া পণ্য বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় তা উত্পাদন খরচের চেয়ে বেশ কম। ফলে সময়মতো প্রয়োজনীয় পাটসহ অন্যান্য কাঁচামাল, খুচরা যন্ত্রাংশ প্রভৃতি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। মিলে কাজ না থাকলে বা আংশিক কাজ হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন মজুরি এবং বিদ্যুত্ বিলসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন নৈমিত্তিক খাতের ব্যয় মিটাতে গিয়ে পাটকলগুলিকে হিমশীম খেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক পাটকলকে লোকশানের বোঝা টানতে হচ্ছে। মাসকে মাস লোকসানের কারণে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাটকলগুলি এক এক করে বন্ধ হতে বসেছে।