ফুল শুধু সৌরভই ছড়ায় না কোনো কোনো ফুল দুর্গন্ধও ছড়ায়। এমন একটি ফুলের নাম খারমান ফুল। কচু গোষ্ঠীর এই প্রজাতির উদ্ভিদটি এক সময় মুক্তাগাছার সর্বত্র বিনা চাষে অযত্নে-অবহেলায় জন্ম নিত। ক্রমশ ঝোপঝাড় পরিষ্কার, পরিবেশ বিপর্যয় এবং মাটিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে খারমান। এখন আর আগের মত খারমান দেখা যায় না। দুই থেকে ৫/৬টি পাতা সমেত গাছটির উচ্চতা বড় জোর ১০ ইঞ্চি। গ্রীষ্ম-বর্ষাকালে উদ্ভিদটির ফুল ফোটে। রক্ত বর্ণের একটি মাত্র ফুল মাঝ বরাবর একটি দন্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ফুল ফোটার সময়কাল সন্ধ্যা বেলা। রাত যত বাড়তে থাকে ফুলের পচা মাংসের মত দুর্গন্ধের মাত্রা ততই বাড়তে থাকে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ফুলের গন্ধ উদ্ভিদ জগতের একটি বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ফুলের এই গন্ধ উপকারী পতঙ্গকে আকর্ষণ করে এবং ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গকে দূরীভূত করে। এক এক ফুলের সৌরভ বা গন্ধ বিশেষ বিশেষ কীটপতঙ্গকে বেশি করে আকর্ষণ করে। উদাহরণস্বরূপ সর্ষে ফুলে যেমনি মৌমাছি আর প্রজাপতির ভিড় দেখা যায়। তেমনি ছাতিম গাছে রাতে মথ ভিড় করে। খারমানের দুর্গন্ধে যে সব পতঙ্গ আকৃষ্ট হয় তারা সবাই গোবরে পোকা গোষ্ঠীর প্রজাতি। খারমানের শাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। গ্রামে-গঞ্জে এর বেশ কদর রয়েছে। এর ভেষজ গুণও যথেষ্ট। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে খারমান। সেইসাথে হারিয়ে যাচ্ছে গোবরে পোকাও। বিঘ্নিত হচ্ছে পরাগায়ন।
