নতুন পোশাক, কাফনের কাপড় ও অলৌকিক শিশু

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৭
মুসলমান সম্প্রদায়ের খুশির ক্ষণ পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ ক্ষণটির জন্য তারা একটি মাস সংযম সাধনার মাধ্যমে পার করে। এ ক্ষণে হাসি-খুশি আর আনন্দে মিলিত হয় সবাই আপন আপন আলয়ে। এ আনন্দে যুক্ত হয় নতুন পোশাক তথা ঈদের পোশাক। সবাই চেষ্টা করে সাধ্যমতো নতুন পোশাক কিনে দিতে। কিন্তু ফিলিস্তিনের মানুষকে নতুন পোশাকের পরিবর্তে সংগ্রহ করতে হয়েছে কাফনের কাপড়। শরীরে সুগন্ধীর পরিবর্তে বারুদের গন্ধ। চোখে কান্নার স্রোতধারা। হাতে ক্ষত-বিক্ষত দেহ নির্গত রক্তের আলপনা। ঈদের খুশি হারিয়ে গেছে মৃত্যু-ভয়ের আতঙ্ক আর বোমার বিকট শব্দে। আমাদের এলাকায় প্রথম টেলিভিশন আসে নব্বই দশকের দিকে। টেলিভিশন দেখার দুর্বার আকর্ষণে কখনো ঘর থেকে পালিয়েছি। যা অনুষ্ঠান হয় তাই দেখি। খবর দেখেছি আগ্রহের সঙ্গে। খবরে প্রায় প্রতিদিন দেখতাম। চেক চেক কাপড়ের পাগড়ি পরিহিত এক ব্যক্তিকে। তিনি কারো সঙ্গে করমর্দন করছেন কিংবা কথা বলছেন কিংবা বক্তৃতা দিচ্ছেন এমন ছবি। তার আগে বা পরে বোমা বিস্ফোরণ কিংবা আহতকে নিয়ে যাওয়া কিংবা ভয়ে আতঙ্কে মানুষের পালানোর দৃশ্য দেখা যেতো। পরে জানতে পেলাম ইনি ইয়াসির আরাফাত। এখনও টিভি দেখা হয়, খবর শোনা হয়। তাতে মাঝে মাঝে খবর হয়ে ওঠে সেই ফিলিস্তিনে বোমা বিস্ফোরণ, আহতদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার দৃশ্য, মানুষের ভয় আর আতঙ্কমাখা মুখে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দৌড়ানোর দৃশ্য। আরো কতদিন যে চলবে এ হত্যা ধ্বংসযজ্ঞ? এমনকি পবিত্র ঈদের সময় বিশ্ববিবেকের আহবান অনুরোধ উপেক্ষা করে বর্ষিত হয়েছে বোমা। যে মানবতার জয়গান গাই আমরা তা কি হারাতে বসেছে ফিলিস্তিনিদের রক্তে! গত ২৫ জুলাই ঘটে মর্মান্তিক এক অলৌকিক ঘটনা। বোমার আঘাতে মৃত মায়ের গর্ভ থেকে চিকিত্সকরা অস্ত্রোপচার করে প্রায় ১০ মিনিট পর বের করে আনেন এক জীবিত শিশুকে। কী অলৌকিক! মায়ের মৃত্যু হয়েছে বোমার আঘাতে—কিন্তু ১০ মিনিট কাল পর্যন্ত জীবিত সে শিশু মায়ের পেটে! এরপর চলে চিকিত্সকদের অক্লান্ত চেষ্টা শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে। শিশুটির জন্য মানুষের প্রার্থনা অব্যাহত থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ব্যর্থ করে দিয়ে চারদিন পর শিশুটি মারা যায়। কী অপরাধ ছিল শিশুটির? কী দোষ ছিল তার মায়ের? যে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই বোমার আঘাতে মৃত মায়ের গর্ভ থেকে তাকে পৃথিবীর মুখ দেখতে হয়! তবু এতটুকু মানবতা বোধ জেগে ওঠে না বোমা বর্ষণকারীদের! সাধারণ মানুষগুলোর কী অপরাধ? আমরা না সভ্য! আমরা না মানবতার কথা বলি! নিরপরাধ শিশু, মহিলা, পুরুষ মারা পড়ছে। ধ্বংস হচ্ছে তাদের বসত ঘর। ক্ষত-বিক্ষত হয়ে কাতরাচ্ছে দিন-রাত। কবে থামবে এমন মানবতা-দগ্ধ কর্ম? বিবেক কি নাড়া দেয় না তাদের যারা এ কাণ্ড ঘটাচ্ছে বা যারা এসব ঘটাবার সুযোগ করে দিচ্ছে! গাইবান্ধা