আমাদের শিক্ষার হার এখনো নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। যে কারণে আমাদের দেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নতি লাভ করতে পারছে না। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার হার প্রায় ৬৭.৫। আমাদের দেশে যে হারে শিক্ষার হার বাড়ছে তা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উন্নত দেশগুলোর কাছাকাছি চলে যাবে। ইদানীং অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা প্রদানের চেষ্টা করছেন। শহরে কিংবা গ্রামে সব পর্যায়ে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় এগিয়ে আসছে। শিক্ষার প্রসারে সরকারও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার প্রসার যেভাবে হওয়া দরকার সেভাবে হচ্ছে না। কারণ দিন দিন জনসংখ্যা বাড়লেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনুপাতিক হারে বাড়েনি। বিশেষ করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একেবারে বাড়েনি।
আমাদের দেশে সামপ্রতিককালে যে হারে বেসরকারি বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে, সে হারে সরকারি পর্যায়ে কোনো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠেনি। আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ। এদেশের অধিকাংশ মানুষই মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত এবং গরিব। বেসরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের পড়ানো সম্ভব হয় না। কারণ বেসরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার খরচ অত্যাধিক বেশি। অন্যদিকে সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার খরচ একেবারে কম। যে কারণে তারা ছেলেমেয়েকে সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে আগ্রহী। কিন্তু সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় সবার পক্ষে সেখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয় না। যে কারণে অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। এভাবে হারিয়ে যায় অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা।
দেশে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট দীর্ঘদিনের। এই সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা আশা করবো দেশ এবং জাতির স্বার্থে ধাপে ধাপে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই উদ্যোগ যত দ্রুত নেওয়া হবে ততই জাতির জন্য মঙ্গল।
চট্টগ্রাম
