ভাসমান চাষ পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৩
দক্ষিণের জলাভূমির ভাসমান পদ্ধতির শাকসবজি চাষ ধাপ এলাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল উদ্ভাবন ক্ষেত্র বরিশাল-পিরোজপুর-গোপালগঞ্জের বিভিন্ন বিল এলাকার পাশাপাশি এটা ছড়িয়ে পড়ছে যশোর-খুলনার জলাবদ্ধ গ্রামে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই হ্রদেও তা পরীক্ষামূলকভাবে চাষের প্রচেষ্টা চলছে। ধাপ পদ্ধতির মূল উদ্ভাবনী অঞ্চল পিরোজপুরের নাজিরপুরে বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরের মত এবারও চাষাবাদ শুরু হয়েছে। বৈঠাকাটা বিলে ভাসমান বেডে উত্পাদিত চারার প্রথম দফা বাজারজাতও চলছে। পিরোজপুরের নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠি উপজেলা, বরিশালের বানারীপাড়া ইউনিয়নের অভিন্ন বেসিন এরিয়ার জলাভূমির বাসিন্দাদের ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্ভাবন ভাসমান বীজতলা ও শাকসবজি চাষ স্থানীয়দের কাছে যা ধাপ চাষ নামে পরিচিত। প্রায় শত বছর ধরে চলে আসা এ পদ্ধতি আজও দেশে অনন্য। জলাভূমির বাসিন্দারা আপন মেধায় এ বিশেষ ধরনের কৃষি কৌশল উদ্ভাবন ও অবলম্বন করে দারিদ্র্য জয়ের পাশাপাশি নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। অপর দিকে দেশের এরূপ জলাবদ্ধ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবন জীবিকার লড়াইয়ে টিকে থাকতে পথ দেখাচ্ছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞরাও বিশেষ পদ্ধতির চাষাবাদের প্রশিক্ষণসহ কৃষকদের ব্যাপকভাবে উত্সাহিত করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের ক্রমাগত উচ্চতা বৃদ্ধিতে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি জমিতে জলমগ্নতার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সেক্ষেত্রে এ পদ্ধতির চাষাবাদ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার এক অবলম্বনও হতে পারে। চাষ প্রধান এলাকা পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মুগারঝোড়, বেলুয়া, চিথলিয়া, উত্তর কলারদোয়ানিয়া, গাওখালী, মনোহরপুর, পদ্মডুবি, বিলডুমুরিয়া, গজালিয়া প্রভৃতি গ্রামের শ’শ’ একর জলাভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে ধাপের উপর শাক-সব্জির চারা উত্পাদন হয়। অর্থকরী ও লাভজনক হওয়ায় এ বিশেষ পদ্ধতির চাষাবাদ এলাকার কৃষকের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। বর্তমানে নাজিরপুরের বিল অঞ্চলের কৃষকদের পাশাপাশি স্বরূপকাঠী উপজেলার চামী ও গগন, বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি, মরিচবুনিয়া, উমারেরপাড়, কদমবাড়ী এবং পশ্চিম মলুহারসহ বিভিন্ন গ্রামের জলাভূমিতে ব্যাপক হারে ধাপ চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বর্নীর বিল, মুকসুদপুরের চান্দার বিল, কোটালীপাড়ার বাইগ্যারবিলসহ দেশের জলমগ্ন জলাভূমির কৃষকরা এ বিশেষ পদ্ধতির চাষাবাদে আবারও মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। এক সময় এ সব বিলে বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্নভাবে ধাপ চাষ হত, যা স্থানীয় মানুষের কাছে ‘বাইর্রা’ নামে পরিচিত ছিল। আর্থিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় মাঝে তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গত শতকের শেষে নাজিরপুর-বানারিপাড়ার বিলে ভাসমান শাকসবজি চাষে সাফল্য অর্জিত হওয়ায় গোপালগঞ্জের চাষীরা তাদের পূর্ব পুরুষের চর্চ্চিত এ চাষে আবারও আগ্রহী হয়ে উঠেন। বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে কৃষকরা নাজিরপুরে এসে এ কৃষি প্রযুক্তির ধারণা হাতে কলমে শিক্ষা নিয়ে বিলুপ্ত প্রায় কৃষিকে পুনরুজ্জীবনে ব্যাপৃত হয়েছেন। তিন বছর আগে নাজিরপুর উপজেলার বিশিষ্ট কয়েকজন ধাপ চাষী ও উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মীরা সুদূর পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই হ্রদে জমে থাকা কচুরিপানাকে ব্যবহার করে সেখানকার কৃষকদের হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে এসেছেন। যশোরের ভবদহ বিলেও এখান থেকে একটি টিম গিয়ে কৃষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যেভাবে চাষ হয় নাজিরপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে বৈঠাকাটা বাজার সন্নিহিত মুগারঝোর গ্রামের জলাভূমিতে চাষাবাদের ব্যাপক দেখা মেলে। বর্ষার শুরু অর্থাত্ আষাঢ় থেকে কার্তিক পর্যন্ত এ পাঁচ মাস কৃষকদের ভাসমান ধাপের উপর শাকসবজির চারা উত্পাদন ও তা বিক্রির সময়। আষাঢ়ে এসব গ্রামের নিচু জমি পানিতে প্লাবিত হওয়ার সাথে সাথে কৃষকরা নেমে পড়েন ধাপ চাষে। কচুরিপানা, দুলালীলতা, শ্যাওলা, টেপাপানা, গুড়িপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদের সাথে খড়কুটা এবং নারিকেলের ছোবড়াগুঁড়া মিলিয়ে স্তরে স্তরে সাজিয়ে তৈরি করা হয় ভাসমান বীজতলা। যা পচে তৈরি হয় জৈবসার। ১০০ থেকে ১৮০ ফুট লম্বা ৫-৬ ফুট চওড়া এবং এক-দেড় ফুট পুরু বীজতলা পানিতে তৈরি হয়, যা থাকে ভাসমান। পুরুষরা ধাপ তৈরি, চারা স্থাপন, পরিচর্যা ও চারা বিক্রির কাজ করেন। নারীরা ও ছোট ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে বসে চারা তৈরির প্রাথমিক স্তর অর্থাত্ বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটানোর কাজ করে। শ্যাওলা, নারিকেলের ছোবড়া ইত্যাদি দিয়ে ছোট ছোট বল আকারের বস্তু তৈরি করা হয়। স্থানীয় ভাষায় একে টেমা বা দৌল্লা বলে। এর মধ্যে বীজ রেখে অঙ্কুরোদগম ঘটানো হয় যা পরে বা ধাপের উপর স্থাপন করে নির্দিষ্ট সময় পরিচর্যার পর চারায় পরিণত করা হয়। এছাড়া ধাপের উপর সরাসরি কিছু সবজির অঙ্কুরোদগম ঘটানো হয়। ধাপচাষীরা লাউ, সিম, বেগুন, বরবটি, করল্লা, পেঁপে, টমেটো, শশা, পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, মরিচ ও মশলার চারা তৈরি করেন ধাপের উপর। কেউ কেউ লালশাক, ঢেঁড়স, হলুদ, আদা, মরিচ ইত্যাদিও ফলান। পাইকারি ক্রেতারা এসে ক্ষেত থেকে শাকসবজির চারা ক্রয় করে নৌপথে নিয়ে তা সবজি আবাদকারীদের কাছে বিক্রি করেন। মুগারঝোর গ্রামের ধাপচাষী রুহুল আমীন জানান, অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টিতে বিপর্যয় না ঘটলে পাঁচ মাসে চার/পাঁচ বার চারা উত্পাদন করে বিক্রি করা যায়। কৃষক আলাউদ্দিন গাউস জানান, তার বার্ষিক আয়ের প্রধান উত্স ধাপ চাষ। তিনি বছরে এই চাষ দিয়ে দুই/আড়াই লাখ টাকা লাভ করেন। তিনি আরো জানান, ১০০ ফুট (এক রশি) দীর্ঘ একটি ধাপ তৈরি এবং সেখানে চারা উত্পাদনে এ বছর পাঁচ মাসে খরচ হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে ঐ চারা বিক্রি হবে ২৫ হাজার টাকা। চারা তোলা শেষে কান্দির সবজি ক্ষেতেও ধাপ ব্যবহার হয়, যা জৈবসারের কাজ করে। এই গ্রামের শতবর্ষী কৃষক সেকেন্দার আলী। তার বয়স যখন ১৫ বছর তখন থেকে এই ধাপ পদ্ধতি চালু হয়েছে এবং নিজে ঐ সময় থেকে এ চাষে নিয়োজিত হন। এই অঞ্চলে চাষ পদ্ধতির তিনি একজন পথিকৃত। এখন ছেলে, ছেলে বউ নাতি বউ এরা এ চাষে ব্যাপৃত। এ প্রবীণ কৃষক বলেন, ঘরের বৌ-ঝিরা এখনকার মত আগে এ কাজ করতেন না। বর্তমানে নারীরা এ কাজে পুরুষদের সহায়তা করায় চাষের খরচ কমেছে, লাভ বেড়েছে। এদিকে এ ধাপ চাষকে কেন্দ্র করে নাজিরপুর বিল অঞ্চলে গাঁওখালী, বৈঠাকাটা ও মনোহরপুর বাজারে ধাপ তৈরির বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদের হাট বসছে এবং এ সকল জলজ উদ্ভিদ সংগ্রহ ও বিক্রি করেও শত শত লোকের জীবন জীবিকা চলছে। বাজারজাত হচ্ছে শাকসবজি নাজিরপুরের বৈঠাকাটা বাজারে সাথের গ্রামটির নাম মুগারঝোড়। গ্রামটি বছরের বেশিরভাগ সময় জলে মগ্ন থাকে। এক সময় ঝোঁপঝাড়ে আকীর্ণ থাকায় ঝাড়ের অপভ্রংশ হিসাবে গ্রামের নামের শেষে ঝোড় শব্দটি যুক্ত হয়েছে। পুরো গ্রাম জলাভূমি থাকায় সেখানে প্রায় সকল বাসিন্দাই বর্ষাকালে ধাপ পদ্ধতির চাষে ব্যস্ত থাকেন। এই গ্রামের চাষী আক্তার হোসেন এবার চার রশি ধাপে সবজি চারার চাষ করেছেন। এক রশি ধাপে দুই হাজার লাউয়ের চারা উত্পাদিত হয়েছে। প্রতিটি চারা তিন টাকা করে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি একই আয়তনের ধাপে ২৩শ’ সিমের চারা তৈরি করা হয়েছে। প্রতি লাউ চারা তিন টাকা এবং সিম চারা দেড় টাকা করে বিক্রি হয়েছে। সরাসরি ক্ষেত থেকে পাইকাররা চারা কিনে নিচ্ছেন। ধাপ চাষীদের নিয়ে গঠিত একটি কৃষক সংগঠনের নেতা আক্তার জানালেন, মৌসুমে পাঁচ বার এক একটি ধাপ থেকে উত্পাদন নামবে। শুরুতে ১০ হাজার টাকা খরচ হয় প্রতিটি ধাপে, মৌসুম শেষে ১৫/১৬ হাজার টাকা খরচ দাঁড়াবে। মৌসুমের আয় হবে ২৫/২৬ হাজার টাকা। কোন বিপদ-আপদ না হলে ধাপ প্রতি লাভ ১০ হাজার টাকা। আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার উত্পাদন খরচ বেড়েছে। এ কারণ জানতে চাইলে তিনি জানালেন, ধাপ তৈরির উপকরণ টেপাপানার দাম বাড়তি। বর্ষা ঋতুর শুরুতে যেসব জলাভূমিতে টেপাপানা জন্মে তা এবার কম হয়েছে। পাশাপাশি আরেক উপকরণ দুলালী লতারও দাম বৃদ্ধি, মজুরি বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে এ উত্পাদন খরচ বেড়ে গেছে। বাড়ছে চাষ এলাকা বিল ডুমরিয়া গ্রামটির নামেই পরিচয়। সেখানকার স্বচ্ছল কৃষক সাহাবুদ্দিন মিয়ার প্রধান আয়ের উত্স জলাভূমির আরেক ব্যতিক্রমী শাকসবজি চাষ কান্দিবেড় পদ্ধতি। শীত মৌসুমে ২০/২২ একর জমিতে তার এ পদ্ধতির চাষ হয়। কয়েক বছরে তিনি মনোযোগী হয়েছেন ধাপ পদ্ধতির চাষে। এ বছর ১১ রশি ধাপে চারা উত্পাদন করছেন যা গত বারের চেয়ে দ্বিগুণ। গত বছর এ চাষে বেশ সাফল্য পাওয়ায় এ বছর বিনিয়োগ বাড়িছেন। সাহাবুদ্দিন জানালেন, তার মত অনেকেই ধাপ পদ্ধতির চাষে অতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কান্দি-বের পদ্ধতি:নাজিরপুরের বিভিন্ন বিলের কান্দি-বের পদ্ধতির সবজি চাষের ব্যাপক বিস্তৃৃতি দীর্ঘকাল ধরে। এ উপজেলার পূর্ব দেউলবাড়ী দোবরা ও কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম ছাড়াও মালিখালী, দীর্ঘা, স্বরূপকাঠির বলদিয়া, বরিশালের বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ও ইলুহার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের এই বিশেষ পদ্ধতির চাষ হচ্ছে। এছাড়া গোপালগঞ্জের সদর, টুঙ্গীপাড়া, কোটালিপাড়া, মুকসুদপুর, কাশিয়ানী উপজেলায় কান্দি-বের পদ্ধতির চাষ হচ্ছে। দেউলবাড়ী দোবরা ও কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ৭৬৮০ হেক্টর জমির মধ্যে ৩৬০৫ হেক্টর বিল এলাকা। যার অধিকাংশ কান্দি-বের পদ্ধতির অধীন। ২২ প্রকার শাক-সবজি ও ৬ প্রকার মসলা জাতীয় ফসল এ পদ্ধতিতে চাষ হয়। গোল আলু, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, করল্লা, ফুলকপি, বাঁধা কপি, শালগম, মরমা, চিচিঙ্গা, শশা, ঝিঙ্গা, বেগুন, ঢেঁড়শ, কাকরোল ইত্যাদি সবজি এবং মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ ও ধনিয়া মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ হয় এ জলাভূমিতে। আখ ও কচুর চাষও হয়। এই চাষ পদ্ধতিতে জৈব সারের ব্যবহারই বেশি। ১২ থেকে ১৫ ফুট প্রস্থের এবং অনির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের কান্দিতে এসব শাক-সবজির চাষ হয়। দুইটি কান্দির মাঝে সমপরিমাণ প্রস্থের নালা বা বের কাটা থাকে। এই বেরে সব সময় পানি থাকে যা সেচ কাজে ব্যবহার করা হয়। আবার এই নালার উপরে মাচা বেঁধে লতা জাতীয় ফসল করা হয়। বিল ডুমরিয়া, মনোহরপুর, দেউলবাড়ী, পদ্মডুবি, গাওখালী, কলারদোয়ানিয়া, হেচাখালী, মুগারঝোড়, বেলুয়া মুগারঝোর, খলনি, সোনাপুর প্রভৃতি গ্রামে প্রাক শীত মৌসুমে কান্দিবের পদ্ধতির চাষাবাদ শুরু হয়। এসব এলাকার পাঁচ সহস্রাধিক কৃষক পরিবার শত বর্ষ ধরে এ চাষে নিয়োজিত। এলাকার জৈব মাটি শাক-সবজি চাষে বিশেষভাবে উপযোগী বলে কৃষকরা এ জলাভূমিতে এই বিশেষ পদ্ধতির শীতকালীন ফসল উত্পাদন করে আসছেন, যা এলাকার বাসিন্দাদের প্রধান অর্থকরী ফসল । কৃষি ব্যাংক, এনজিও, মহাজন প্রভৃতি সূত্রে কৃষকরা অর্থের যোগান পান। মৌসুমে বাজারজাত করণের অসুবিধার কারণে এক সময় ফসলের দাম কমে গিয়ে উত্পাদকরা মারাত্মক সমস্যাও পড়েন। বীজ, কীটনাশক, সার, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদি এ চাষে প্রধান সমস্যা বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। বৈঠাকাটা, গাঁওখালী, মনোহরপুর প্রভৃতি বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ, ভেজাল কীটনাশক ও সার বিক্রি করায় কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছেন। ইঁদুরের ব্যাপক আক্রমণ ও ঘনকুয়াশা ফসলহানির অন্যতম কারণ। কোল্ডষ্টোরেজ না থাকায় বিশেষতঃ আলু বীজ সমস্যা প্রকট। পিরোজপুরে কর্মরত বিশিষ্ট কৃষিবিদ জগিপ্রয় দাস বিশু ইত্তেফাককে বলেন, ভাসমান পদ্ধতির শাকসবজি চাষ কয়েক যুগ ধরে পিরোজপুর, বরিশাল, গোপালগঞ্জের বিলে বর্ষাকালে অত্যন্ত সফল। কৃষকরা এই কৃষি কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আজ শাকসবজির চারা উত্পাদনের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে গ্রামের অর্ধ শিক্ষিত-অশিক্ষিত চাষীরা নিজেদের আর্থিক বুনিয়াদকে একদিকে যেমন শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাচ্ছেন পাশাপাশি জাতীয় উত্পাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন। বীজ, সার, বালাই নাশক ইত্যাদি উপকরণের গুণগতমান নিশ্চিতকরণ, বাজারজাতকরণ, পুঁজি ইত্যাদি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া গেলে এই কৃষি পদ্ধতি আরও টেকসই হবে। আগামীর ভরসা জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি যখন সবাইকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে তখন ভাসমান পদ্ধতির চাষকে আগামীতে এ অঞ্চলে কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নির্ভরতার দিক হিসাবে দেখছেন কৃষি ও পরিবেশ গবেষকগণ। বিশিষ্ট গবেষক ইনসিডিন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন মঞ্জু ইত্তেফাককে বলেন, তাদের সংগঠন নাজিরপুরের জলাভূমিতে কৃষি নিয়ে কয়েক বছর কাজ করছেন। তাদের অভিজ্ঞতায় এলাকার ধাপ পদ্ধতি জলাবদ্ধ কৃষি জমিতে উত্পাদন ক্ষেত্রে অনুকরণীয়। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অভিযোজন প্রক্রিয়া হিসাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে সুফল পাবে।