শোকাবহ আগস্ট

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০০
আগস্ট বাঙালির জীবনে শুধু শোকের নয়, একটি অভিশপ্ত মাসও বটে। এ মাসেই ঘটেছিল বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কলঙ্কজনক ঘটনা। ঘাতকদের হাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। দেশে থাকলে তাদেরও জীবন দিতে হতো। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা অসহায়ের মত নির্বাসিত জীবন কাটান। ১৯৮১ সালের মে মাসে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তার পিছু ছাড়ে না। বার বার তাকে হত্যার চেষ্টা চলতে থাকে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে চলে আরেকটি নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। মূলত শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ঘাতকরা ওই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায়। কিন্তু গ্রেনেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি আবারো প্রাণে রক্ষা পান। তবে নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড প্রাণ সংহার করে আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মীর। তাই বর্ষপরিক্রমায় আগস্ট এলেই সেই রক্তাক্ত স্মৃতিগুলো দেশবাসীর মনে ভেসে ওঠে। প্রসঙ্গত বাংলার ইতিহাসে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা অতি প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। ১৭৫৭ সালে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। তত্কালীন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে একদল বিশ্বাসঘাতক নির্মমভাবে হত্যা করে। এই ঘটনার দীর্ঘ ২১৪ বছর পর ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলার স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘাতকরা চেয়েছিল ইতিহাসের চাকাকে পিছনে ঘুরাতে। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি বিল পাস করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারেনি। বরং তারাই নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনিরা আস্ফাালন করে বলেছিল, পৃথিবীতে তাদের বিচার করার কারো সাধ্য নেই। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস ৭৫’র ১৫ আগস্টের ঘাতকদের বাংলার মাটিতে ফাঁসি হয়েছে। শোকাবহ আগস্টের আজ দ্বিতীয় দিন। আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনসমূহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাসব্যাপী কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ শনিবারও রয়েছে আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন।