নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বাঁচাতে একটি চক্র খুব জোরেসোরেই দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছে। ওই চক্রের ইন্ধনেই মিশন বাস্তবায়নের জন্য নূর হোসেনের শ্যালক নূরে আলম ও ক্যাশিয়ার কাশেম কয়েকদিন আগে তিন কোটি টাকা নিয়ে কলকাতা গেছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম। এদিকে আজ শনিবার তৃতীয় দফায় নূর হোসেনকে হাজির করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে বারাসাত আদালতে। মামলার তদন্ত সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আশা করছে, নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে আদালতের আদেশ পাওয়া যেতে পারে। অপরদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, নূর হোসেনকে ফেরত আনা হবেই। এ নিয়ে কোন ধরনের সংশয়ের অবকাশ নেই।
গত ১৪ জুন রাতে কলকাতার কৈখালী এলাকার একটি ফ্লাট থেকে গ্রেফতার হন নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী খান সুমন এবং ওহিদুর জামান শামীম। তাদের বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারের পর কলকাতা পুলিশ তাদের ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রিমান্ড শেষে গত ২৩ জুন পুলিশ তাদেরকে আদালতে হাজির করে। তবে এ পর্যন্ত নূর হোসেন ও শামীমের পক্ষে কেউ জামিনের আবেদন করেননি। তবে নূর হোসেনের অপর সহযোগী খান সুমনের পক্ষে জামিন আবেদন করলেও আদালত দুই দফায় তা খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি আদালত নূর হোসেনসহ তিনজনকে আরও ১২ দিন হাজতে রাখার আদেশ দেয় এবং শুনানির দিন ধার্য করে ২ আগস্ট। সে মোতাবেক তাদের আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে।
নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম আরো বলেন, কলকতা পুলিশের হাতে নূর হোসেন ধরা পড়ার পরপরই একটি মহলের টনক নড়ে। কারণ নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনা হলে সাত খুনের অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে পড়বে। খুলে যাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেই সব গডফাদারদের মুখোশ। তবে নূর হোসেন ধরাপড়ার পর প্রথম দিকে ওই চক্রটি সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুকৌশলে কাজ শুরু করেছে। এ কারণেই কয়েকদিন আগে নূর হোসেনের শ্যালক নূরে আলম ও ক্যাশিয়ার কাশেমকে টাকা দিয়ে ভারত পাঠায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে তিনি শুনেছেন, নূর হোসেনের শ্যালক বারাসাত আদালতের বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, সাত খুন মামলার তদন্ত নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সঠিকভাবেই তদন্ত করছে বলে বিশ্বাস করি। তবে এখন আমাদের প্রধান দাবি নূর হোসেনকে ফেরত আনা। আশাকরি, সরকার খুব দ্রুত তাকে ফেরত আনবে।
এদিকে নূর হোসেনকে কবে নাগাদ ফেরত আনা সম্ভব হবে -এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, নূর হোসেনকে ফেরত আনা হবে, আশাকরি, খুব শিগগিরই তা দেখতে পারবেন।
সাত খুন মামলার সর্বশেষ অবস্থা
সাত খুনের ঘটনায় পুলিশ র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ১৫ জনকে হত্যা মামলা গ্রেফতার দেখানো হয়। অপর ১৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ৫৪ ধারায়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ও নূর হোসেনের দুই সহযোগীসহ ৫ জন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আর সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন র্যাব ১১-র সাবেক দুই কর্মকর্তাসহ চার জন। তবে এ পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত কোন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। সাত খুনের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যাদের আসামি করা হয় তারা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেন, ঠিকাদার হাসমত আলী হাসু, থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজু, নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনীর সদস্য আনোয়ার হোসেন আসিফ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, নূর হোসেনের ভাতিজা ও বিএনপি কর্মী ইকবাল হোসেন।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জে জেলা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এজাহারভুক্ত ও গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে যাদের সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে তাদের সবাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
