আগামী সপ্তাহ শেষে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। আন্দোলনের প্রকৃতি ও প্রাথমিক লক্ষ্য কি হবে- তা নির্ধারণে এই সপ্তাহ শেষে অথবা আগামী সপ্তাহের প্রথমে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। এরপর বেগম খালেদা জিয়া জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইত্তেফাককে জানান, বেগম খালেদা জিয়া যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তার কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে দল এবং জোটের বৈঠকে। কর্মসূচি হবে ভিন্ন মাত্রার। তাতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে। ঢাকাকে মূল কেন্দ্র রেখে হবে এবারের আন্দোলন। এই আন্দোলনে সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো চেষ্টাই কাজে আসবে না। দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল চিকিত্সা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পরই স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হবে। দলের একাধিক নীতিনির্ধারণী নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আন্দোলনের লক্ষ্য হচ্ছে সরকারের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন করে তুলে দাবি আদায়। দাবি না মানলে সরকার পতনে যা যা করার তাই করা। বিএনপির নেতারা বলছেন, আন্দোলনের লক্ষ্য তারা নির্ধারণ করেছেন। পরিকল্পনা করে কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন বাস্তবায়নই বড় কথা।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঈদের ছুটি তো এখনও শেষ হয়নি। আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেয়া হবে। আর সরকার যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির তোয়াক্কা না করে তাহলে জনগণ যেকোনো উপায়ে দাবি আদায়ে রাস্তায় নামবে।
বেগম জিয়ার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, সৌদি আরবে অবস্থানকালে আগামী দিনের আন্দোলনের কিছু কৌশল খালেদা জিয়ার কাছে তুলে ধরেছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে এক কাতারে এনে আন্দোলনে নামার মতামত তার।
দলের দায়িত্বশীল একজন নেতা বললেন, আন্দোলন হবে ধাপে ধাপে, টানা নয়। পরিস্থিতি এবং সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করছে সবকিছু। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেয়া হবে। সরকার তাতে বাধা দিলে কঠোর হতে থাকবে কর্মসূচি।
তিনি জানান, এই আন্দোলন কোরবানির ঈদ অবধি যেতে পারে। সে পর্যন্ত সরকারকে আল্টিমেটামের আবর্তে ফেলা হতে পারে। তা না মানলে কোরবানির ঈদের পর চূড়ান্ত আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত আছে। এরমধ্যে দল গোছানোর পাশাপাশি সরকারকে চাপে রাখার ‘আন্দোলন’ গড়ে তুলতে চান দলের একটি পক্ষ। তিনি বলেন, আন্দোলনে ঢাকাকে প্রধান্য দেয়া হচ্ছে। ঢাকার আহবায়ক কমিটি হয়েছে। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে মহানগর কমিটি পুরোদমে কাজ শুরু করবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক দল তাই আন্দোলন হবে অহিংস। অহিংস আন্দোলনে বাধা দিলে সরকারকে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। তবে সরকার বাধা দিলে এবার জনগণ বিজয় অর্জন না করে ঘরে ফিরবে না।
