পল্লবীর বিহারী ক্যাম্পে আগুন দেয়ার দেড় মাস পরও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। হত্যা, ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় দায়ের করা ৬টি মামলার তদন্ত কাজও ঝিমিয়ে পড়েছে। তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ শুধু হত্যা মামলা নিয়েই আগ্রহ দেখাচ্ছে। অন্য ৫টি মামলার ব্যাপারে কোন তদন্ত কাজও হচ্ছে না। এ ব্যাপারে এই ৫টি মামলার ভাগ্য পুলিশ এখন ছেড়ে দিয়েছে বিহারী ক্যাম্পবাসীদের ওপর। হত্যা ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটি এখনও তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়নি। ওদিকে, ঘটনার দিন পুলিশের গ্রেফতার করা ৯ জন জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে গেছেন। পুলিশ দাবি করেছে, গ্রেফতার করা এই ৯ জনের সাথে ঘটনার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু আগুন ধরিয়ে দেয়ার পিছনে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আটক বা গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশ এখনও কোন অভিযান পরিচালনা করেনি।
গত ১৫ জুন ভোরে পল্লবীর কুর্মিটোলা ক্যাম্পে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের সঙ্গে বহিরাগত ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ক্যাম্পের ৮টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হলে এক পরিবারের নারী-শিশুসহ ৯ জন পুড়ে মারা যান। পুলিশের গুলিতে নিহত হন ক্যাম্পের অপর এক বাসিন্দা। ৯ জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পল্লবী থানার এসআই মমিনুর রহমান এবং পুলিশের উপর আক্রমণের ঘটনায় এসআই জাহিদুল হক বাদী হয়ে মামলা দু’টি করেন। ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু, এক যুবককে জবাই করে হত্যার চেষ্টা, গাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, মারধর, চুরি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে দায়ের অপর চারটি মামলা করেন ক্যাম্পের বিহারীরা। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো মামলা করেননি। এসব মামলায় বিহারী-বাঙালিসহ মোট তিন হাজার ২৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগে মামলাগুলোর তদন্তভার স্থানান্তর করা হয়। ঐ দিন গ্রেফতার করা হয় ফরিদ (৪০), আজাদ (৪৪), সাব্বির (১৮), আরিফ হোসেন (৩৪), জুয়েল (১৮), নাসিম (৪৫), সীমা (৩০), নবীর (৩৪) ও বদর উদ্দিনকে (২৮)। এদের মধ্যে আজাদ, আরিফ, জুয়েল ও সাব্বিরকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পল্লবী থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ডিবি তেমন কোন অগ্রগতি করতে পারেনি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করেনি। ঘটনার দিন পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, স্থানীয় যুবলীগের গেসু, বিল্লাল, জাহিদ, হেলু, জালাল ও পল্লবী থানা পুলিশের কয়েকজন সোর্সের আগুন ধরিয়ে দেয়ার পেছনে ভূমিকা থাকার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এদের আটক বা গ্রেফতারের জন্য কোন অভিযান পরিচালনা করেনি।
ডিবির উপ-কমিশনার (উত্তর ও পশ্চিম) শেখ নাজমুল আলম বলেন, এই ৬টি মামলা তদন্তের মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে যে হত্যা মামলাটি করেছে সেটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই মামলার তদন্ত কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। বাকি ৫টি মামলা বিহারীদের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিবে।
ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলার তদন্তে রিমান্ডে নেয়া ৪ জনের কাছ থেকে তেমন কোন তথ্য মিলেনি। তবে স্থানীয়ভাবে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে খোঁজ নেয়া হচ্ছে, কারা সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এ ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্যও ডিবি’র কাছে এসেছে।
অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে কোন ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা চি?হ্নিত করতে পারেনি।
তদন্ত কমিটির প্রধান ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) মীর রেজাউল ইসলাম বলেন, তদন্ত কমিটি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছে। এই বক্তব্য থেকে ঘটনার সঙ্গে স্থানীয়দের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, পুলিশের কোন গাফিলতি আছে কিনা অথবা এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে সতর্কতার জন্য সুপারিশ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগির এই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ডিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দিবে বলে তিনি জানান।
