ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ২২:০৯

যে খাদ্য খাইয়া মানুষ জীবনধারণ করে, যে খাদ্য সুস্বাস্থ্যের মূল উত্স, তাহা লইয়া দেশবাসীর মধ্যে কোনো মাথাব্যাথা দেখা যায় নাই। বিক্রেতা কী বিক্রয় করিতেছেন, সে খাদ্য আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত কি না, খাবারে কখনো কোনো কেমিকেল ব্যবহার করা হইয়াছে কি না, রন্ধনশালা পরিচ্ছন্ন কি না সেই খবর কোনো গ্রাহককেই লইতে দেখা যায় নাই। যাহার ফলে খাদ্য ব্যবসায়ীরাও, অর্থাত্ ছোট-বড় রেস্টুরেন্টগুলি অধিক মুনাফার জন্য বাসি খাবার, নিম্নমানের খাবার বিক্রয় করিয়াছেন যথেচ্ছ।  খাদ্য তৈরি কারখানাগুলিও তদারকি না থাকার কারণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করিয়া আসিতেছিল। উপায়ান্তর না দেখিয়া অবশেষে র্যাব, পুলিশ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থা জাগিয়া উঠিয়াছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাহারা প্রতিনিয়তই অভিযান চালাইতেছেন এবং জেল-জরিমানা ধার্যে কসুর করিতেছেন না। আরও আশার কথা হইল, এই অভিযান চালাইতে গিয়া তাহারা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তি পরিচয়ের বাছ-বিচার করিতেছেন না। ধামরাই বা যাত্রাবাড়ি হইতে গুলশান বনানী কোনো অঞ্চলই ভেজাল বিরোধী অভিযানের আওতামুক্ত নহে। মঙ্গলবার মেট্রোপলিটান পুলিশের ভ্রাম্যমাণ দুইটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করিয়াছেন। কেবল ঢাকা শহরেই নহে, দেশব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হইতেছে। বুধবার আন্তর্জাতিক রপ্তানিকারক কোম্পানি এলিন ফুডসহ তিন কারখানাকে নিরাপদ খাদ্য আইনে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করিয়াছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার সিলেটের র্যাব ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান চালাইয়া মিষ্টি এবং খাদ্যসামগ্রী উত্পাদনকারী চারটি প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করিয়াছেন।  

প্রশ্ন হইল, এই রকমের অভিযান সরকারি সংস্থাগুলি কত চালাইবে, কতক্ষণ চালাইবে যদি দেশের সাধারণ মানুষ জাগিয়া না উঠে? সংস্থাগুলির তো অন্যান্য কর্তব্যও রহিয়াছে।  দেশে লক্ষ লক্ষ খাদ্য বিক্রয়ের দোকান-প্রতিষ্ঠান রহিয়াছে; হাজার হাজার খাদ্য উত্পাদন কারখানা রহিয়াছে। দেশবাসী সচেতন হইলে এইসকল প্রতিষ্ঠান সচেতন হইতে বাধ্য। জনগণ সচেতন হইলে সরকারের সংস্থাগুলির মধ্যে স্বস্তি আসিবে, সর্বক্ষণ তাহাদের অভিযানের পেছনে ছুটিতে হইবে না। সুতরাং সাধারণ মানুষের চক্ষু খুলিতে হইবে। নোংরা পরিবেশে খাদ্য পরিবেশন করিতে দেখিলে প্রতিবাদ করিতে হইবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পৌঁছাইয়া দিতে হইবে। সর্বোপরি দেশের জনগণের মধ্যে নৈতিকতা, মূল্যবোধের সংস্কৃতি গড়িয়া ওঠা একান্ত জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। খাদ্য ব্যবসায়ীরাও এই দেশেরই নাগরিক। তাহারা যদি ন্যূনতম সততা, নৈতিকতা বজায় রাখেন তাহা হইলেই খাদ্যে ভেজালের প্রাদুর্ভাব কমিয়া যাইবে। খাদ্য তৈরি পরিবেশ, খাদ্য সরবরাহের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ব্যয়বহুল কোনো বিষয় নহে। তাহা হইলে এতটুকু সচেতন তাহারা কেন হইবেন না?