বাগে পেয়েও বিন লাদেনকে হত্যা করেননি ক্লিনটন

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫৫
টুইন টাওয়ারে হামলার আগে আফগানিস্তানে ‘বাগে পেয়েও’ আল কায়দার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার নির্দেশ দেননি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। —খবর বিডিনিউজ অস্ট্রেলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে ক্লিনটনের দেয়া এই বক্তব্যের একটি অডিও টেপ প্রচার হওয়ার পর তা নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। ক্লিনটনের ওই অডিও টেপ এই সপ্তাহে প্রচার করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্কাই নিউজ। ক্লিনটনের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে আফগানিস্তানের কান্দাহারে বিন লাদেনকে হত্যা করা যেত, তবে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তিনি তখন অভিযানে সায় দেননি। অডিও টেপে ক্লিনটন বলেন, ওসামা বিন লাদেন খুবই চতুর একজন ব্যক্তি। তাকে নিয়ে আমাকে অনেক ভাবতে হয়েছে, তবে তাকে একবার বাগে পেয়ে গিয়েছিলাম।” এই পর্যায়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া অন্যদের হাসিতে চাপা পড়ে ক্লিনটনের কথা। এরপর তাকে বলতে শোনা যায়- “তাকে আমরা পেয়েই গিয়েছিলাম। তাকে মারতে পারতাম, কিন্তু সেজন্য কান্দাহার শহরটি ধুলায় মিশিয়ে দিতে হন, মারা পড়ত ৩০০ নিরীহ নারী ও শিশু। সেজন্য আমি অনুমতি দিইনি।” যুক্তরাষ্ট্রের নাইন-ইলেভেন কমিশনের এক প্রতিবেদনেও ক্লিনটনের এই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ১৯৯৮ সালে ডিসেম্বরে বিন লাদেনকে হত্যার জন্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি পরিকল্পনা নেয়া হলেও বেসমারিক মানুষের প্রাণহানি এড়াতে তা বাদ দেয়া হয়। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের এই বক্তব্যে উড়িয়ে দিয়ে তাকে ‘মিথ্যুক’ আখ্যায়িত করেছেন সিআইএ-এর ওসামা বিন লাদেন ইউনিটের সাবেক প্রধান মাইকেল শুয়ের। ক্লিনটনের অডিও টেপ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ফক্স নিউজকে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট যেভাবে বলেছেন, ঘটনাটি আসলে তা নয়। তিনি মিথ্যাচার করেছেন। সিআইএ-এর সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে বিন লাদেন দক্ষিণ কান্দাহার থেকে কান্দাহার শহরে যান মোল্লা ওমরসহ তালেবান নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে। কান্দাহারের গভর্নর ভবনে বিন লাদেন রাতে ছিলেন এবং তখন সেখানে হামলা চালালে আল কায়দা ও তালেবানের শীর্ষ নেতারা ছাড়া অন্য কারো মারা পড়ার সম্ভাবনা ছিল না বলে মাইকেল শুয়ের দাবি করেন। তিনি বলেন, সেদিন তিনি সিআইয়ের তত্কালীন প্রধান জর্জ টেনেটের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন। “প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসে তিনি (টেনেট) একটি কথাও বলেননি। পরে গাড়িতে ওঠার পর বলেছিলেন, অভিযানটি হচ্ছে না। কারণ ক্রুজ মিসাইল হামলা হলে পাশের একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর তার প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম দেশগুলোতে আমেরিকানদের ওপর হামলা শুরু হতে পারে।” এই কারণেই তখন বিন-লাদেনকে বাগে পেয়েও অভিযান চালানো হয়নি বলে সিআইএ-এর সাবেক এই কর্মকর্তার দাবি।