ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনটঘাট এলাকা নবীন-প্রবীণ ও শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত ৫ দিন যাবত্ এখানে জমে উঠেছে ঈদ আনন্দের এক মিলন মেলা।
দোহারের কার্তিপুর বাজার থেকে মাত্র ২ কি:মি: দূরে পদ্মার পাড়ে মৈনট খেয়াঘাট। দোহার নবাবগঞ্জসহ ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুরের অংশ ও শরিয়তপুরের অনেক লোকজনই এ ঘাট দিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। ঘাটের দুই পাশে জেগে ওঠা চরের অংশ বিশেষ নিয়ে বিশাল এলাকা যেন অনেকটা সাগর সৈকতের মতোই বিস্তৃত রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বিকাল হতেই এখানে ভিড় জমায় হাজারো নারী-পুরুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা নদীর পাড় ঘুরে যেন অনেকেই সাগর সৈকতের তৃষ্ণা মেটায়। ঈদের দিন থেকে শুরু করে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৫ দিনে পা ফেলার জায়গা ছিলো না নদীর তটে, ছিল দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়। পদ্মার পাড়ের দৃশ্য দেখতে ভালো লাগে। মন কিছুটা প্রফুল্ল হয়। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে এখানে ঘুরতে আসা। এভাবেই নিজের মনোভাব ব্যক্ত করলেন ঢাকার মঞ্জুরুল হক।
নবাবগঞ্জের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন বলেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে আসা। অনেক ভালো লাগে। পদ্মার ঢেউ, পাল তোলা নৌকা, মাঝির গান, গ্রামীণ ঐতিহ্যের ঘোড়ার গাড়ি কোন কিছুরই কমতি নেই এখানে। এ এলাকাকে পর্যটন স্পট ঘোষণা করা হলে চমত্কার হবে।
কলেজ শিক্ষার্থী আবু নাইম বলেন, সীবোটে , ট্রলারে ও হেঁটে হেঁটে পানিতে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। সারাবছর জুড়ে এমনটা হলে অনেক ভালো লাগবে। বিকালের হিমেল হাওয়ায় চরের কাঁশবনের দোল খাওয়া দেখে অনাবিল আনন্দ হয়।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল করিম ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, দোহারের পদ্মা পাড়ে পর্যটন ও রিসোর্ট গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটা করলে বিনোদনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকাশ ঘটবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হবে।
