দৌলতদিয়ায় দুর্ভোগে রাজধানীগামী মানুষ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৩
প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কর্মমুখী মানুষ ছুটেছে রাজধানী দিকে। ২টি ইউটিলিটি ফেরি বিকল থাকায় নদী পারের অপেক্ষায় দৌলতদিয়া ঘাটে সিরিয়ালে আটকে আছে কয়েকশ’ যানবাহন। এতে রাজধানীগামী আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীরা প্রচণ্ড রোদ-গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শনিবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাট সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঈদের ছুটি শেষে দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মস্থলগামী মানুষের ঢল নেমেছে। লোকজন বোঝাই বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ শত শত গাড়ি দৌলতদিয়াঘাটে এসে ফেরির অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকে আছে। দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী পারের অপেক্ষায় আটকে আছে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাসসহ কয়েকশ’ গাড়ি। ঘাট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান এই নৌরুট দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন পারাপার হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নানামুখী প্রস্তুতি সত্ত্বেও এবার ঈদে দৌলতদিয়াঘাটে দুর্ভোগ থেকে রেহাই পায়নি এরুট দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে ঘাট এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তত্পরতার কারণে এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও চলন্ত ফেরিতে জুয়া নামে ছিনতাইয়ের মতো কোন ঘটনা শোনা যায়নি। ঘাট এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। অপরদিকে লঞ্চঘাটের তিনটি পন্টুনসহ ওভারব্রিজে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। কোথাও যেন তিল ধারণের এতটুকু জায়গা খালি নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাস, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে নেমে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে লঞ্চ ঘাটে আসে। এসময় পর্যাপ্ত পরিমাণ লঞ্চ ঘাটে না থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দৌলতদিয়াঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমান এই নৌরুটে ছোট-বড় মোট ১৫টি ফেরি সচল রয়েছে। রুটে চলাচলকারী অপর দুটি ইউটিলিটি ফেরি শাপলা-শালুক ও মাধবী লতা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় বন্ধ আছে। রুটে যে ফেরিগুলো সচল আছে নতুন কোন সমস্যা না হলে এগুলোর মাধ্যমে সন্ধ্যা ৭-৮ টার মধ্যে সকল গাড়ি নদী পার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। চাটমোহরে রেলে কালোবাজারির দৌরাত্ম্য চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন চাটমোহরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার মানুষ। অধিক দামে বাসের দু’চারটে টিকেট মিললেও, ট্রেনের টিকেট সোনার হরিণ। চাটমোহর, বড়ালব্রিজ ও উল্লাপাড়া রেলস্টেশনে কোন টিকেট মিলছে না। বলা হচ্ছে অনেক আগেই টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। ৭ দিন পরের টিকেটও নেই। অথচ প্লাটফরমে কালোবাজারিরা প্রকাশ্যে টিকেট বিক্রি করছে তিনগুণ দামে। চাটমোহর থেকে ঢাকায় যেতে আন্তঃনগর ট্রেনের একটি টিকেটের মূল্য ২৫০ টাকা। সেই টিকেট কালোবাজারিদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে ৭শ’ টাকা দিয়ে। নিরুপায় হয়ে অনেকে তিনগুণ দামেই টিকেট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। টিকেট কিনেও প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে ট্রেনের মধ্যে গিয়ে নিজের আসন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন না অনেকে। এসি টিকেট ৪৫০ টাকা। সেই টিকেট নেয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা। গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শনিবার চাটমোহর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল কালোবাজারিরা হকারের মতো ডেকে ডেকে টিকেট বিক্রি করছে। অথচ কাউন্টারে কোন টিকেট নেই। কালোবাজারিরা জানালো, তারা স্টেশন মাস্টার, রাজনীতিবিদ, থানাসহ বিভিন্ন স্থানে বখরা দিয়ে টিকেট বিক্রি করছেন। তারা বললো, পেপার পত্রিকায় যত খুশী লেখেন, তাতে কোন লাভ হবে না।’ একই অবস্থা বড়ালব্রীজ, উল্লাপাড়া ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে রেলওয়ে স্টেশনে। টিকেট কালোবাজারির অভিযোগে জিআরপি থানা পুলিশ শুক্রবার উল্লাপাড়া স্টেশন থেকে চাটমোহরের দুই কালোবাজারিকে ২৫টি টিকেটসহ গ্রেফতার করেছে। এরা হলো চাটমোহর উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আলাল উদ্দিন (৩৩) ও অমৃতকুন্ডা গ্রামের আবু হানিফ (৪০)। চাটমোহর স্টেশন মাস্টার মহিবুল আলম বললেন, আমাদের ৭দিনের টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। কালোবাজারিতে টিকেট বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। কালোবাজারিদের তিনি চেনেন, কিন্তু কিছু করার নেই। কাউন্টার থেকে তারা টিকেট কেনেন। অন্য কোনভাবে তাদের টিকেট দেয়া হয় না। তবে অভিযোগ কালোবাজারিরা বুকিং ক্লার্ক ও স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগসাজশে টিকেট নিয়ে কালোবাজারি করছে। টিকেট কালোবাজারিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে সংঘর্ষকালে ২ কালোবাজারি নিহত হয়েছে।