সালথার কামার শিল্পিরা পেশা বদলাচ্ছেন

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:২৯
হাতুরির টং টং শব্দে সকাল বেলা প্রতিবেশীর ঘুম ভাংতো। সেখানে আজ নিঃশব্দ নিরবতা। গ্রাম-গঞ্জে, হাট-বাজারের কামার সমপ্রদায়ের অধিকাংশ সদস্যরা তাদের বংশগত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু কিছু কামার পরিবার এখনো তাদের বাপ-দাদার এ পেশা আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দা, বটি, কুড়াল, কাঁচি, খোন্তা, ট্যঁঙ্গী, কোদালসহ নানা জিনিস তৈরি করে কামারেরা তাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। বর্তমানে এ পেশার আয় দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকেই পূর্ব পুরুষের এ পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন। ক্ষুদ্র এ শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহূত লোহা ও কয়লার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে কিন্তু তাদের তৈরি জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি না হওয়ায় এই পেশা থেকে দিন দিন তারা সরে যাচ্ছেন। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রায় ২ শতাধিক কামার পরিবারগুলো বর্তমানে ভাল নেই। সালথা বাজারের জোসনা কর্মকার জানান, বর্তমানে লোহার দাম বেশি সেজন্য জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার কামার পরিবারের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, তারা হতদরিদ্র ও অনেকেই ভূমিহীন। অনেকের বসবাসের ভিটামাটি ছাড়া তেমন কোন জায়গা জমি নেই। তবে প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকায় ও উপকরণসমূহ সঠিকভাবে না পাওয়ায় তাদের এই দুরাবস্থার মূল কারণ হিসাবে দেখছেন স্থানীয় সুধী মহল।