প্রতিদিন প্রতি মুহূর্ত পাখির কলতানে মুখরিত চারিদিক। বৃহত্তর রাজশাহীতে পাখির অভয়াশ্রম ও পাখির মেলা। তিন বিঘার (এক একর) বিশাল বাগান জুড়ে বাহারি রঙের হরেক রকম অতিথি পাখির বিচরণ। মজার বিষয় হলো হামিদ বাগান ছাড়া অন্য কোন গাছে একটি পাখিও বসে না। সাত বছর থেকে পাখিরা রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি গ্রামের প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক আবদুল হামিদের আম বাগানে বসতি গেড়েছে। পাখি দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভালুকগাছি আসছে হাজারো মানুষ। ঈদের ছুটিতে বিনোদন পিয়াসী মানুষের ভিড় ভালুকগাছি গ্রামে।
বাগান মালিকের পুত্র, রাজশাহী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র রিপন জানান, বৈশাখ পড়লেই পাখিরা তাদের বাগানে আসতে শুরু করে। এবার প্রায় দ্বিগুণ নতুন পাখি এসেছে। বাগানের জায়গা সংকুলন না হওয়ায় পাখিরা আমাদের বাড়ির আঙ্গিনার আম, নিম, বেলসহ অন্যান্য গাছে বসছে। কিন্তু পাখিরা অন্য মানুষের গাছে এখনো বসছে না। তিনি আরো জানান, পাখি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তায় স্থানীয়রা একটি কমিটি করেছেন। পাখিদের নিরাপদে বসবাসের কমিটির সদস্যরা অভয়াশ্রম পাহারা দেয়। কমিটির সদস্য তাকবীর হাসান বলেন, বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, হামিদ মাস্টারের বাগানে ১০/১২ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এসব পাখির মধ্যে টনডরি সুন্দরী, ভেউয়া, লস্কর সুন্দরী, বিলাসী, মনিসুন্দরী উল্লেখযোগ্য।
গত বৃহস্পতিবার রংপুরের শুটিমারী থেকে আসা আলম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম বলেন, তার নড়াইলের এক বন্ধু ১৫ দিন আগে ভালুকগাছিতে পাখি দেখে গিয়ে বিষয়টি তাকে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটে আসা। পাখিদের কলতানে মন জুড়িয়ে যাচ্ছে। ঢাকার আজিমপুর থেকে আসা মাগুড়ার প্রকৌশলী এসএম হেয়ায়েত করিম বলেন, দেশে এতো সুন্দর পাখির অভয়াশ্রম রয়েছে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। পাখির এই অভয়াশ্রম সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাবিয়া সুলতানা পপি বলেন, স্যারদের কাছে পাখির কথা শুনে আমরা এখানে পিকনিক করতে এসেছি। পাখি দেখে মনে হচ্ছে, আরও দু’দিন থেকে যাই। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। আশা করি প্রতি বছর এখানে পিকনিকে আসবো।
পাখির আশ্রয়দাতা আবদুল হামিদ বলেন, ‘পাখিদের বাগানে আশ্রয় দেয়াতে বছরে আমার প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। পাখি বসার কারণে কীটনাশক সেপ্র করতে না পারায় গাছে আম হয় না। পাখিদের ভারে গাছের ডাল ভেঙ্গে যাচ্ছে। লোকজন আমাকে পাখিদের তাড়িয়ে দিতে বলেছিল। কিন্তু পাখিদের প্রতি ভালোবাসার টানে আমি তা করিনি। বরং পাখিদের মায়ায় এলাকাটিকে সরকারিভাবে পাখিদের অভয়াশ্রম ঘোষণা ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, গতবছর বিভাগীয় বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কর্মকর্তারা এসে পুরো এলাকাকে ‘পাখিদের অভয়াশ্রম’ হিসাবে ঘোষণা করে মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ সাইনবোর্ড স্থাপন করে গেছেন। গত ২৬ জুন সামাজিক বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইউনুস আলী, বগুড়া জোনের বন সংরক্ষক ড. লস্কর মাকসুদুর রহমান, বিভাগীয় বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোল্লা রেজাউল করিম ও জেলা সামাজিক বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র পাখির বিচরণ এলাকা পরিদর্শন করেন।
