মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে দুই কিমি যানজট

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৫
গতকাল শনিবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের ফেরি, লঞ্চ, স্পীডবোটে কর্মস্থলমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লেগেছে। তবে কাওড়াকান্দি ঘাট এলাকায় মাদারীপুর জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরুল্লাহ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। আজ রবিবার সকল অফিস খোলা। তাই শনিবার সকালের পর বেলা বাড়ার সাথে সাথে কাওড়াকান্দি ঘাট হয়ে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা থেকে ছেড়ে আসা বাসসহ যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাওড়াকান্দি থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরি, লঞ্চ, স্পীডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, শনিবার ৩টার পর থেকে কাওড়াকান্দি ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল লঞ্চ, স্পীডবোট ও ফেরিগুলোতে। সড়কের দুই পাশে সারি সারি গাড়ি থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে যানজট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে লঞ্চগুলো পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। দীর্ঘ এ নৌরুটে তীব্র স্রোতের মাঝেও সবচেয়ে বেশি যাত্রী স্পীডবোটেই পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। মাওয়া-কাওড়াকান্দি-মাঝিকান্দি ঘাটগুলোতে ৫ শতাধিক স্পীডবোট চলাচল করে। দ্রুতগতির এ নৌযানে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত এক সপ্তাহে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান দুদিন এ রুট পরিদর্শনকালে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন। কিন্তু স্পীডবোটগুলো অতিরিক্ত বোঝাই হয়ে তীব্র স্রোতের মাঝে উত্তাল পদ্মা পারাপার হলেও অধিকাংশ যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেট পরিহিত দেখা যায়নি। সব স্পীডবোটে একটি করে বয়া থাকলেও পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ছিল না। লাইফ জ্যাকেট যাও আছে তা কোন যাত্রীদের পরতে দেখা যায়নি। নদী পথে বা ঘাট এলাকায় পুলিশ টহল থাকলেও এ ব্যাপারে তাদের তেমন উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে শনিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। অন্য দিনের চেয়ে শনিবার দুপুর থেকে লঞ্চ ও স্পীডবোটগুলোতে যাত্রী পারাপার ছিল অস্বাভাবিক। যাত্রীদের চাপ থাকায় লঞ্চ, স্পীডবোট ও ফেরিগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে মাওয়ার উদ্দেশে ছেড়েছে। এ রুটে ৩টি রো রো ফেরি, ৭টি কেটাইপ ফেরি ও ৭টি ডাম্ব ফেরিসহ ১৭টি ফেরিই সচল রয়েছে। কাওড়াকান্দি স্পীডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সকল স্পীডবোটেই আমরা বয়া ও লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করেছি। যাত্রী চাপ থাকায় তা সবাইকে পরানো সম্ভব হচ্ছে না। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. সাত্তার বলেন, স্পীডবোটে সকল যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। এই আইন না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জের মাওয়াঘাটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। প্রতিটি বাস কাউন্টারেই যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। লঞ্চ, সিবোট ও ট্রলারে করে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই নৌযানগুলো সকাল থেকে মাওয়ায় আসছিল কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে। বাসসহ সকল নৌযানেই যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাওয়া বন্দর কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, ঈদের ছুটি শেষে শনিবার কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও মানুষের ঢল নামেনি। সকাল ১০টার পর হতে লঞ্চ, সিবোট ও ট্রলারে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। তবে দুপুরের পর থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ কিছুটা কমেছে। আজ রবিবার এ চাপ আরো বাড়তে পারে।