শিল্পের বাজার ও আর্ট গ্যালারির সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫০
দেশে গত দুই দশকে বেশ কিছু শিল্প গ্যালারি গড়ে উঠলেও শুধু ছবি বিক্রি করে এসব গ্যালারি টিকে থাকতে পারছে না। বাংলাদেশের শিল্পকলাকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলা এবং শিল্পের বাজার প্রতিষ্ঠায় এসব গ্যালারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের নিজেদের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে পড়েছে। নব্বইয়ের দশকে গ্যালারি শিল্পাঙ্গন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পের প্রসারে যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল এক দশক পরে বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস সেই ধারাকেই যেন বহু দূর এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এখন সারাদেশে সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্যালারি ও কমার্শিয়াল গ্যালারি মিলিয়ে প্রায় ৪০টির মত হবে। কমার্শিয়াল গ্যালারির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ছবি বিক্রি করে এখনো একটি গ্যালারি টিকে থাকার পর্যায় আসেনি। এ গ্যালারিগুলোতে প্রায় সারাবছরই প্রদর্শনী চলে। জনপ্রিয় প্রবীণ শিল্পীদের প্রদর্শনী তো চলেই; পাশাপাশি তরুণ শিল্পীদের প্রদর্শনীও কম হচ্ছে না। এছাড়া শিল্পীদের বেশকিছু সংগঠন হয়েছে, এরাও দলবদ্ধ প্রদর্শনী নিয়ে আসেন শিল্পরসিকদের সামনে। ফলে এখন মানুষ প্রচুর ছবি দেখছে। মানুষের মাঝে শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি একটি শিল্পরুচিও গড়ে উঠছে। কিন্তু এত এত প্রদর্শনীর ছবিগুলো কারা সংগ্রহ করেন। গ্যালারি মালিক ও শিল্পীরা বলছেন, প্রধানত বিত্তশালী ও রুচিবান মানুষই শিল্পের ক্রেতা। বাংলাদেশ সৃষ্টির পরে যারা বিশাল অর্থের মালিক হয়েছেন এ ব্যবসায়ীদের দ্বিতীয় প্রজন্মই এখন ছবির ক্রেতা। একইসঙ্গে কর্পোরেট ক্রেতাও সৃষ্টি হয়েছে দেশে। ব্যাংক-বীমা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক একটি খাত থাকে; যা এই শিল্প সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যয় করা হয়। ছবি দিয়ে ঘর সাজাতে কে না ভালোবাসে! কিন্তু একটি চিত্রকর্ম কী শুধুই ঘর সাজানোর উপকরণ? একজন শিল্পীর ভাবনা, ক্যানভাসে তার মনের কথার যে বাঙ্ময় নিবেদন এসব কিছুই না! একটি শিল্পকর্ম মানুষকে তীব্রভাবে নাড়া দেয়, আন্দোলিত করে। সুন্দরের প্রতি আকাঙ্ক্ষা, মানুষের প্রতি ভালোবাসার যেন একেকটি অঙ্গীকার প্রকাশ পায় শিল্পীর ক্যানভাসে। মানুষের, সমাজের শিক্ষা-রুচির উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ে শিল্পের প্রতি আগ্রহ। বাড়ে চাহিদা। ছয় দশক আগে দেশের মানুষের শিল্পের প্রতি যে আগ্রহ ছিল তা এখন বেড়ে হয়েছে বহুগুণ। সৃষ্টি হয়েছে শিল্পের বাজার। রাজধানীতে গড়ে উঠেছে বেশকিছু গ্যালারি। প্রতিদিন প্রদর্শনীতে শিল্পরসিকদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে সেসব গ্যালারি প্রাঙ্গণ। মানুষ ছবি কিনছেন, সংগ্রহে রাখছেন সেসব ছবি। সৃষ্টি হয়েছে শিল্প-সংগ্রাহক। এসব গ্যালারি ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিশনে ছবি বিক্রি করে থাকে। এই কমিশনের মধ্যেই প্রদর্শনীর আয়োজন, ক্যাটালগ প্রকাশ, প্রচার, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজনে অর্থ ব্যয় করে থাকে গ্যালারি কর্তৃপক্ষ। জনপ্রিয় শিল্পীর ক্ষেত্রে এই খরচে কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু তরুণ ও অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় শিল্পীদের ক্ষেত্রে গ্যালারি মালিকদের এই বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আবার সব শিল্পীরই কিছু কিছু নির্দিষ্ট ক্রেতা থাকে; যারা সরাসরি সেই শিল্পীর কাছ থেকে ছবি কেনেন, এই ক্রেতারা কখনোই গ্যারারি থেকে কিনতে আগ্রহী হন না। শিল্প সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ বলেন, ছবি বিক্রি ও ছবির বাজার সৃষ্টির সঙ্গে একটি দেশের অর্থনীতি জড়িত। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর একটি ব্যবসায়ী শ্রেণীর হাতে টাকা এসেছে। এরাই ‘চারু পুঁজি’র সৃষ্টি করেছে। যারা অরজিনাল পেইন্টিং সংগ্রহে রাখাকে ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ হিসাবে দেখেন। তারা এমন জিনিস সংগ্রহে রাখতে চান যা অন্যের কাছে নেই। তাদের এই আগ্রহ যেন অনেকটা মেয়েদের গহনা সংগ্রহের মতই তীব্র। সংগ্রাহকদের এই নেশা অনেক সময়ে উন্মাদনায় পৌঁছায়। জয়নুল আবেদিনকে কেন্দ করেই বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার অগ্রযাত্রার সূত্রপাত ঘটে। ১৯৪৮ সালে চারুকলা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের লোকায়ত শিল্পধারাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠতে থাকে তরুণ শিল্পী। বাংলাদেশের মাস্টার পেইন্টার জয়নুল-কামরুল-সুলতানকে সামনে পায় তারা। ধীরে ধীরে একটি উজ্জীবিত তরুণ প্রজন্ম গড়ে ওঠে। আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাইয়ুম চৌধুরী, মুর্তজা বশীর, রশীদ চৌধুরী, দেবদাস চক্রবর্তী, হাশেম খান, রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, শাহাবউদ্দিন আহমেদ, শহীদ কবীর — তখনকার এই তরুণ শিল্পীরাই আজকের বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার পথিকৃত্। তাদের অবলম্বন করেই বর্তমানের তরুণ শিল্পীরা গড়ে উঠছেন। বাংলাদেশের প্রথম গ্যালারির নাম ছিল ‘আনসাম্বল’। এ গ্যালারির সঙ্গে অনেক শিল্পীরাও যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে ষাট ও সত্তরের দশকে দেশে শিল্পের ক্রেতা খুব কম ছিল। তখন ক্রেতা ছিল মূলত বিদেশি ও অবাঙালিরা। মুক্তিযুদ্ধের পরেই দেশে সংগ্রাহক সৃষ্টি হতে শুরু করে। এখন চারুকলা থেকে পাস করে বের হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। আর্ট ইনস্টিটিউশন ও বিভাগের সংখ্যাও বেড়েছে। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহসহ ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম করা যায়। দুটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও রয়েছে চারুকলা অনুষদ। এগুলো হলো শান্ত মরিয়ম এবং ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা)। এছাড়া বিভিন্ন শহরে চার-পাঁচটি কলেজ রয়েছে, যেখানে ফাইন আর্ট-বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট আর্ট কলেজ, বগুড়া আর্ট কলেজ ইত্যাদি। প্রতি বছর চার-পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী চারুকলা থেকে বের হন, তবে শেষ পর্যন্ত, হয়তো ১০ জন শিল্পী পেশা হিসেবে বেছে নেন এই মাধ্যমকে। এর কারণ ছবির বাজার সত্যিকার অর্থে বাড়েনি। তবে গত ২০ বছরে আর্টিস্টের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও গ্যালারির সংখ্যা বেড়েছে। গ্যালারিতে নিয়মিত প্রদর্শনী হচ্ছে। বর্তমানে কমার্শিয়াল গ্যালারির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেঙ্গল শিল্পালয়, বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ, গ্যালারি কায়া, ঢাকা আর্ট সেন্টার, গ্যালারি শিল্পাঙ্গন, গ্যালার টোয়েন্টি ওয়ান, গ্যালারি চিত্রক, অ্যাথেনা, গ্যালারি কসমস প্রভৃতি। এ প্রসঙ্গে সাজু আর্ট গ্যালারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমিজ আহমেদ চৌধুরী সাজু বলেন, তখন তো জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসানের ছবি বিক্রি হতো ৫০০-৭০০ টাকায়। প্রথম প্রথম কিস্তিতে ছবি বিক্রি করেছি। বিক্রিও হতো খুব কম। প্রধান ক্রেতা ছিল বিদেশিরা। এখন তো সে অবস্থা বদলে গেছে। বিদেশিরা তো কিনছেনই তবে দেশের ক্রেতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বনামধন্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী বললেন, বাংলাদেশে শিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন গ্যালারি শিল্পাঙ্গনের প্রয়াত পরিচালক ফয়েজ আহমদ। তিনি একক চেষ্টায় এবং নিজের কারিশমায় সেই সময়ে বেশকিছু সংগ্রাহক সৃষ্টি করেছিলেন। ফয়েজ আহমদের পরেই যদি দেশের শিল্প অগ্রগতিতে অবদান কেউ রেখে থাকেন তো তিনি বেঙ্গল গ্যালারির পরিচালক সুবীর চৌধুরী। সদ্য প্রয়াত এই ব্যক্তি হাল সময়ে দেশের শিল্পচর্চাকে একাই বদলে দিয়েছিলেন। নতুন সংগ্রাহক সৃষ্টি, জেলায় জেলায় মোবাইল প্রদর্শনীর আয়োজন, বিদেশে প্রদর্শনীর আয়োজন, বিদেশি শিল্পীদের সঙ্গে দেশের শিল্পীদের কর্মশালার আয়োজন, নতুন শিল্পীদের প্রদর্শনীর আয়োজন, এসব কিছুই দেশের শিল্পচর্চাকে উত্সাহিত করেছে, মানুষকে শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। কাইয়ুম চৌধুরী আরো বলেন, তবে দেশে গ্যালারি যত বেড়েছে সেই তুলনায় বিক্রি তেমন বাড়েনি। সব গ্যালারিতে বিক্রি ভাল নয়। তবে মানুষের আগ্রহ ধীরে হলেও বাড়ছে। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সাজু আর্ট গ্যালারি। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, শিল্পের প্রতি ভালোবাসার যে ক্রমবর্ধমান ধারা এটা তো খুবই ভালো ব্যক্তি মানুষের জন্য, সমাজের জন্যও। বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক গ্যালারি হিসাবে পরিচিত শিল্পাঙ্গনের পরিচালক রুমী নোমান বললেন, প্রয়াত ফয়েজ আহমদ ১৯৯২ সালে গ্যালারি শিল্পাঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর স্বপ্নই ছিল বাংলাদেশের শিল্পচর্চাকে আধুনিক বিশ্বের ধারায় একটি কাঠামোয় নিয়ে আসা। সেদিক থেকে শিল্পাঙ্গনের স্বপ্ন সফল হয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে, শুধু ছবি বিক্রি করে একটি গ্যালারির টিকে থাকা সম্ভব না। দেশের কোন গ্যালারিই ছবি বিক্রি করে টিকে নেই। গ্যালারিগুলো চালু রয়েছে মূলত শিল্পপ্রেমী মালিকদের পৃষ্ঠপোষকতায়। বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টসের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বললেন, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পরে আমরা সচেতনভাবেই চেয়েছি দেশের শিল্পীদের মূল্যমান বাড়াতে। বাংলাদেশের শিল্পীদের কাজের যে মান তা সেভাবে দেশে ও বিদেশে মূল্যায়িত হয়নি। ছবি বিক্রি করে গ্যালারি টিকে সেই বাজার দেশে এখনো সৃষ্টি হয়নি। আমরা এই অবস্থাটা পাল্টে দিতে চাই। তিনি বলেন, ১৪ বছর আগে যখন বেঙ্গল গ্যালারি প্রতিষ্ঠা পায় তখন হাতেগোনা কয়েকটি গ্যালারি ছিল। এখন দেশে প্রায় ৩০-৪০টি গ্যালারি। বেঙ্গল মোহাম্মদ কিবরিয়ার প্রথম প্রদর্শনীতে তাঁর একেকটি ছবি বিক্রি হয়েছিল ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। আর এখন মোহাম্মদ কিবরিয়ার ছবির দাম ৪০ লাখ টাকা। আমাদের আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীদের ছবির মূল্যায়ন হওয়াটাও জরুরি। সেই মান নির্ধারণও গ্যালারির কাজ। সেইসঙ্গে আমরা বিদেশের শিল্পীদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে দেশের শিল্পীদের জন্য যেমন একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছি, তেমনি দেশের শিল্পীদেরও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সৃষ্টি এবং সেসব দেশের কর্মশালায় অংশগ্রহণ ও বাংলাদেশের শিল্পীদের বহির্বিশ্বে প্রদর্শনীতে দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করছি। সেদিক থেকে বেঙ্গল তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করেছে। শিল্পকর্ম কী তবে শুধুই ধনীদের জন্য এই বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে দুটি প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রথমত, যার উদ্বৃত্ত অর্থ নেই তিনি শিল্পের সমঝদার হলেও ছবি সংগ্রহ করতে পারছেন না। দ্বিতীয়ত, এই শিল্পীদের ছবি বিক্রির পর তার কী কোন হদিস থাকে? এখন স্বনামধন্য শিল্পীদের ছবি লাখ টাকার কমে পাওয়াই যায় না। কাজ ভেদে ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে কাজের। সদ্য পাস করা নতুন শিল্পীরাও তাদের ছবির দাম ২০-২৫ হাজারের কমে রাখতে চান না। এ প্রসঙ্গে শিল্প সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ বলেন, ইউরোপে এখন ছবির বাজারে মন্দা চলছে। সেই দিক থেকে বাংলাদেশে তার প্রভাব কম। এখানে বিত্তশালী শ্রেণী যারা ডলারে খরচের হিসাব করে অভ্যস্ত, তাদের পাঁচ হাজার ডলার মূল্যমানের একটা ছবি কেনা কঠিন কিছু না। ফলে আমাদের স্বনামধন্য শিল্পীদের ছবি বিক্রিতে তেমন ভাটা পড়েনি। কিন্তু সেসব ছবি মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। যাদের টাকা আছে তারাই সংগ্রহে রাখছেন সেসব ছবি। গ্যালারি শিল্পাঙ্গনের পরিচালক রুমী নোমান বললেন, সত্যিকার অর্থে ছবির বাজার ভালো না। কারণ, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে শিল্পকে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এর জন্য আমি দায়ী করবো তরুণ শিল্পীদের । চারুকলা থেকে সদ্য পাস করা শিল্পীরাও তাদের ছবির দাম ২০-২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন। যেখানে আব্দুস শাকুর শাহের কাজ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় মেলে, সেখানে তরুণ শিল্পীর সেই কাজ এত দাম দিয়ে কেউ সংগ্রহ করতে চান না। আর তরুণ শিল্পীরা মনে করছেন, ছবির দাম না বাড়ালে তাকে সবাই সস্তা দরের শিল্পী মনে করবে। যার কারণে, নতুন সংগ্রাহকও সৃষ্টি হচ্ছে না। জনপ্রিয় শিল্পীদের কাজের সংগ্রাহকও ঘুরে ফিরে সেই ১০ থেকে ১৫ জন। এই শিল্পীদের প্রদর্শনী হলে একই সংগ্রাহকরাই কেনেন। অর্থাত্ শিল্পী সংগ্রাহকের সংখ্যা তেমন বাড়ছে না। অন্যদিকে, মঈনুদ্দীন খালেদ বলেন, বাংলাদেশের মাস্টার পেইন্টারদের ছবি বিক্রির ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ এসব ছবি বাংলাদেশের ঐতিহ্যেরও অংশ। ফলে মাস্টার পেইন্টারদের ছবি কার কাছে রয়েছে এটা সরকারের নজরে থাকা প্রয়োজন। তাই মাস্টার পেইন্টারদের ছবি কেনা ও বিক্রির জন্য সরকারকে অবহিত করা, কার কাছে রয়েছে এটা ঘোষণা দেয়া প্রভৃতি বিষয়ে আইন করা জরুরি। ছবির হাট প্রথাগত গ্যালারি কেন্দ্রিক প্রদর্শনী ও ছবি বিক্রির বাইরে ভিন্নধারার শিল্প প্রদর্শনীর ক্ষেত্র গড়ে তুলেছে চারুকলার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। চারুকলা অনুষদের প্রধান ফটকের উল্টোপাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ পথে ‘ছবির হাট’ নাম নিয়ে এই যাত্রা শুরু হয় এক দশক আগে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার উন্মুক্ত স্থানে নিয়মিত ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকেন তারা। এছাড়া বিশেষ দিনগুলোতে বিশেষ উন্মুক্ত প্রদর্শনীরও আয়োজন করে ছবির হাট।