বরিশাল নৌ-বন্দরে ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫০
ঈদের ছুটি শেষে গতকাল শনিবার ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল এখানকার নৌ-বন্দরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন লঞ্চ স্টেশনে। কর্মস্থলগামী হাজার হাজার মানুষ লঞ্চের টিকেট না পেয়ে কালোবাজারে গিয়েও শূন্য হাতে ফিরেছেন। কালোবাজারে আগেই দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হয়ে গেছে টিকিট। লঞ্চের টিকিট না পেয়ে ডেকে, ছাদে ও কেবিনের আশেপাশে বারান্দায় কোন রকমের চাদর বিছিয়ে বসে বা দাঁড়িয়েই কর্মস্থলে ফিরেছেন। লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ঈদের ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে গতকাল শনিবার তারা তাদের সকল লঞ্চে ডাবল ট্রিপ দিয়েছেন। ঝালকাঠী ও কাউখালী থেকে ছেড়ে আসা দু’টি লঞ্চসহ মোট ১১টি লঞ্চ ঢাকাগামী যাত্রী পরিবহনের টিকিট বিক্রি করে। এরমধ্যে সকাল থেকে বরিশাল নৌ-বন্দরে নোঙ্গর করেছিল মাত্র তিনটি লঞ্চ। ৬টি লঞ্চ ঢাকা থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে দুপুরের মধ্যে এখানে ফিরে আসে। কিন্তু এসব লঞ্চের টিকেট আগেভাগে বিক্রি হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা টিকিট পাননি। তবুও কর্মস্থলে ফিরতে হবে। তাই লঞ্চের ছাদে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে রওনা হয়েছেন গন্তব্যে। জায়গা সংকটে স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ পরিবার পরিজন নিয়ে দাঁড়ানোর ঠাই মিলছে না। সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান রিন্টু ইত্তেফাককে বলেন, ঈদ ও কোরবানীর মৌসুমে সকল রীতিনীতি উপেক্ষা করেই ছাদে যাত্রী পরিবহন করা হয়ে থাকে। সুরভী নেভিগেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজিন উল কবির ইত্তেফাককে বলেন, নিয়মিত চারটি লঞ্চের বাইরে আরো ৭টি লঞ্চ গতকাল বরিশাল থেকে স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী পরিবহন করেছে। সুরভীর দু’টি বিলাস বহুল লঞ্চ ছাড়াও সুন্দরবন কোম্পানির দু’টি, কীর্তনখোলা কোম্পানির দু’টি, পারাবত কোম্পানির ৩টি লঞ্চ ছাড়াও টিপু-৭ ও কালাম খান রাউন্ড ট্রিপ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করেছে। এছাড়া ঝালকাঠী থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন-২ এবং কাউখালী থেকে ছেড়ে আসা পূবালী-১ বরিশাল ঘাটে নোঙ্গর করে ঢাকাগামী যাত্রী পরিবহন করে। গতকাল কর্মস্থলগামী মানুষ দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতে না হতেই নৌ বন্দরে ভিড় করেন। কেবিনের টিকেট না পেয়ে লঞ্চের ডেকে একটু বসার জায়গা করে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। সন্ধ্যার আগেই টার্মিনাল এলাকায় হাজার হাজার যাত্রীর ঢল নামে। ঢাকা সদর ঘাটে যাত্রী নামিয়ে লঞ্চগুলো বরিশাল নৌবন্দরে ফিরে নোঙ্গর করার সাথে সাথেই টার্মিনালে অপেক্ষারত যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। লঞ্চ মালিক ও ঘাট শ্রমিকরা জানিয়েছেন ঈদের পর গতকালই সবচেয়ে ভিড় ছিলো। তারা জানান, আজ রবিবার ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে প্রথম কর্ম দিবস হওয়ার কারণে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় বেশি ছিল। টার্মিনালে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে র্যাব, পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। পটুয়াখালীতেও লঞ্চ যাত্রীদের ভিড় পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালী এলাকার অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ লঞ্চযোগে ঢাকায় রওনা দিচ্ছেন। যাত্রীর অস্বাভাবিক ভিড়ের কারণে গতকাল শনিবার পটুয়াখালী নৌ-বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে সাতটি লঞ্চ ছেড়ে যায়। এসকল লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত লঞ্চ দেয়ার পরেও বহু লোক লঞ্চে উঠতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এ অবস্থায় কর্মস্থলগামী যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। পটুয়াখালী নদী বন্দর সূত্র জানায়, তিনটি লঞ্চের জায়গায় সাতটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তারপরও অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠছে মানুষ। এ সুযোগে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। পটুয়াখালী নদী বন্দরের উপ-পরিচালক এস.এম বদরুল আলম জানান, এসময়ে আইন-শৃংখলা বাহিনী দিয়েও লঞ্চের অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় লঞ্চগুলোকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাট ত্যাগ করানো হচ্ছে।